কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :বর্ধমান,২৭ অগস্ট :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে পশ্চিম বর্ধমান জেলা পেল নিজের প্রশাসনিক ভবন ও পুলিশ কমিশনারেটের দপ্তর। মঙ্গলবার বর্ধমান শহর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করলেন আসানসোলের কল্যাণপুরে গড়ে ওঠা নবনির্মিত জেলা শাসকের কার্যালয় এবং আসানসোল সংশোধনাগারের অদূরে তৈরি হওয়া পুলিশ কমিশনারেট ভবনের।
২০১৭ সালে বর্ধমান ভেঙে দুটি জেলা—পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান—তৈরি হয়েছিল। প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের সময় থেকেই পশ্চিম বর্ধমানের জন্য একটি স্থায়ী প্রশাসনিক ভবনের দাবি উঠেছিল। এতদিন আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের অস্থায়ী দপ্তরেই কাজ চালানো হচ্ছিল জেলা প্রশাসনের। এদিনের উদ্বোধনের মাধ্যমে পশ্চিম বর্ধমান পেল নিজস্ব পরিচিতি।
মুখ্যমন্ত্রী শুধু প্রশাসনিক ভবনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। একসঙ্গে উদ্বোধন করেছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৪টি প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে—
-
জামুড়িয়ার আখলপুরে ৩০ শয্যার আরবান কমিউনিটি হেলথ সেন্টার,
-
সালানপুরের কল্ল্যা পঞ্চায়েতের রাস্তা,
-
জামুড়িয়ার চুরুলিয়া ও বারাবনির ইটাপাড়ায় জল প্রকল্প,
-
পান্ডবেশ্বরের ছোড়া এলাকায় সুস্বাস্থ্য ভবন,
-
বারাবনির দোমোহনিতে পুনর্নির্মিত হাটতলা।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন পূর্ব বর্ধমান জেলার একাধিক প্রকল্পেরও উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
-
মন্তেশ্বরে ইন্টিগ্রেটেড ইংরেজি মাধ্যম স্কুল,
-
কেতুগ্রাম থেকে মঙ্গলকোটের নতুনহাট পর্যন্ত বাদশাহী সড়কের সম্প্রসারিত অংশ,
-
ধাত্রীগ্রামের তাঁতের হাটে তন্তুজর প্রোকিওরমেন্ট সেন্টার ও ইয়ার্ন ডিপো কাম ওয়্যারহাউস।
শুধু তাই নয়, বর্ধমান থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পশ্চিম বর্ধমানের ২৩টি প্রকল্পের শিলান্যাসও করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পগুলিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে অন্যতম বরাকর–পুরুলিয়া রাস্তার সম্প্রসারণ প্রকল্প।
ভাতার গ্রামীণ হাসপাতালকে ১২০ শয্যার স্টেট জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা এদিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় ২৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। এছাড়া, পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের খোট্টাডিহি কোলিয়ারিতে নতুন সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
সবচেয়ে বড় আর্থিক বরাদ্দ এসেছে বর্ধমান–আরামবাগ রোডে দামোদরের উপর শিল্প সেতু নির্মাণের প্রকল্পে। আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ৩৪৭ কোটি ১১ লক্ষ টাকা।
শুধু অবকাঠামো নয়, এদিন ভূমিহীন মানুষদেরও মুখ্যমন্ত্রী উপহার দেন জমির পাট্টা। বর্ধমানের মঞ্চ থেকেই কয়েকজনের হাতে পাট্টা তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি ব্লক অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন জায়গায় শত শত মানুষকে পাট্টা বিলি করা হয়।
-
পশ্চিম বর্ধমানে পাণ্ডবেশ্বরের শতাধিক বাসিন্দা,
-
বাঁকুড়া জেলার সদর শহর, বিষ্ণুপুর ও খাতড়ায় প্রায় ৬৮৬ জন মানুষ,
-
পুরুলিয়া জেলায় বিভিন্ন ব্লক অফিসের মাধ্যমে ১১২ জন ভূমিহীন পরিবার জমির অধিকার পান।
উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় একসঙ্গে এগিয়ে নিতে রাজ্য সরকারের অঙ্গীকারের পুনরাবৃত্তি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, “রাজ্যের প্রতিটি জেলা ও প্রতিটি পরিবারের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের দিনটি বর্ধমান ও আশপাশের জেলাগুলির জন্য এক ঐতিহাসিক দিন হয়ে রইল। একদিকে প্রশাসনিক পরিকাঠামোর নতুন অধ্যায় শুরু হল পশ্চিম বর্ধমানে, অন্যদিকে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প ও জমির অধিকার পেয়ে হাসি ফুটল হাজার হাজার সাধারণ মানুষের মুখে।




