কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :বর্ধমান:২৭ অগস্ট :
সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ থেকে চরম পরিণতি! পেট্রল ঢেলে বাবা-সহ গোটা পরিবারকে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ সৎ ছেলের বিরুদ্ধে
পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে এক বিভীষিকাময় ঘটনা। সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব শেষমেশ রক্তাক্ত অধ্যায়ে পৌঁছল। অভিযোগ, নিজের বাবাকেই পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারতে চাইল সৎ ছেলে। শুধু বাবা নন, বাবার বর্তমান স্ত্রী এবং ছোট ছেলে-মেয়েকেও আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে, গুরুতর জখম তিনজন। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার গভীর রাতে, খণ্ডঘোষ থানার অন্তর্গত উদয়কৃষ্ণপুরের পশ্চিমপাড়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত তিনটে নাগাদ কৃষ্ণপদ মিস্ত্রি (৫০) পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন। হঠাৎই তাঁর প্রথম পক্ষের ছেলে বাবুল মিস্ত্রি (৩০) চুপিসারে বাড়ির বাইরে এসে গেট বন্ধ করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। অভিযোগ, এর পরেই সে পেট্রল ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে গোটা বাড়ি জ্বলতে শুরু করে।
চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় প্রতিবেশীদের। স্থানীয়রা ছুটে এসে দরজা ভেঙে কৃষ্ণপদ ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের উদ্ধার করে। কিন্তু কৃষ্ণপদের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সন্ধ্যা মিস্ত্রি (৪২)-কে বাঁচানো যায়নি। গুরুতর জখম কৃষ্ণপদ, তাঁর ছেলে বাদল মিস্ত্রি (১৩) ও মেয়ে সুমিত্রা মিস্ত্রি (১০)-কে দ্রুত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, কৃষ্ণপদ মিস্ত্রির প্রথম পক্ষের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি ফের বিয়ে করেছিলেন। সেই সংসারের সন্তান বাদল ও সুমিত্রা। প্রথম পক্ষের সন্তান বাবুল আলাদা থাকলেও একই গ্রামে বাড়ি করে। দীর্ঘদিন ধরেই সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে কৃষ্ণপদের সঙ্গে তাঁর ছেলে বাবুলের ঝামেলা চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সেই বিবাদের জেরেই বাবুল এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটিয়েছে।
খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ বুধবার ভোরেই বাবুল মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ও অন্যান্য প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, কৃষ্ণপদ ও বাবুলের ঝামেলা নতুন কিছু নয়। মাঝেমধ্যেই তাঁদের মধ্যে বচসা লেগে থাকত। তবে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনার আশঙ্কা কেউই করেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, কৃষ্ণপদ ও তাঁর দুই সন্তানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না।




