কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা,২৭ অগস্ট :
রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্যে নৃশংস আক্রমণ। বুধবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণীর ব্রহ্মপুর এলাকায় ৪৪ বছরের এক গৃহবধূকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপায় অভিযুক্ত স্বামী। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মহিলা, অসীমা নস্করকে, দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। এই কারণে অসীমা নস্কর ছেলে নিয়ে আলাদা ভাড়া বাড়িতে থাকতেন ব্রহ্মপুরে। বুধবার সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ অসীমা কাজের উদ্দেশ্যে বেরোচ্ছিলেন। সেই সময়ই শচীন্দ্রপল্লিতে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বামী হরিপদ নস্কর।
অভিযোগ, হঠাৎই ধারাল অস্ত্র বার করে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন হরিপদ। গলায়ও চালান ছুরি। প্রাণ বাঁচাতে রাস্তায় ছুটতে থাকেন অসীমা। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “হঠাৎ দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় মহিলা দৌড়ে আসছেন। গলা দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে। আমরা দৌড়ে গিয়ে তাঁকে বসাই ও জল দিই।’’
অভিযোগকারী স্বামীকে ধরার আগেই এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বাজারে তখন বহু মানুষ উপস্থিত থাকায় হঠাৎ এই আক্রমণে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়েই বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে পারিবারিক অশান্তিই এর কারণ। তবে অন্য কোনও কারণ যুক্ত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত স্বামীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
এসএসকেএম হাসপাতালে অসীমার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গলার গভীর ক্ষত ও শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, “স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আগে থেকেই বিবাদ চলছিল। কিন্তু এভাবে মাঝরাস্তায় খুনের চেষ্টা করবে, তা কল্পনাও করিনি। পুলিশ দ্রুত হরিপদকে গ্রেফতার করুক।”
একদিকে পরিবারের অশান্তি, অন্যদিকে প্রকাশ্যে এই ধরনের হামলার ঘটনায় ফের একবার প্রশ্ন উঠছে শহরের মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে।




