কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়াদিল্লি ,২৭ অগস্ট :
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলায় বিজেপির কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ (RSS)। অভিযোগ উঠছে, বাংলাভাষী মানুষদের বাংলাদেশি বলে হেনস্থা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সঙ্ঘের শীর্ষ নেতৃত্ব বিজেপির প্রতি প্রবল অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ইন্ডিয়া টুডে-র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই পদক্ষেপ কার্যত ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া’র মতন ।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বাংলায় কথা বললেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা মানুষকে বাংলাদেশি বলে অপমান করছে। বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলছে, এ পদক্ষেপ শুধুমাত্র বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় আরএসএস। সঙ্ঘ নেতৃত্বের দাবি, বৈধ ভারতীয় নাগরিককে শুধুমাত্র বাংলাভাষী হওয়ার কারণে সন্দেহ করা বা হেনস্থা করা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে বাঙালি সমাজ অযথা দূরে সরে যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলার কারণে যেভাবে হেনস্থার ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে চিন্তিত সঙ্ঘ। দিন পনেরো আগে সঙ্ঘের এক শীর্ষ নেতা মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ আটকানো জরুরি হলেও তা করতে গিয়ে বাংলাভাষীদের শত্রু মনে করা যাবে না। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনায় বসেছেন সঙ্ঘ নেতৃত্ব।
গত জুলাই মাসে দিল্লির লোধি কলোনি থানার পক্ষ থেকে অনুবাদক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাতে বাংলাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে উল্লেখ করা হয়। এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব সেই বিজ্ঞপ্তির পাশে দাঁড়ানোয় সঙ্ঘের ক্ষোভ আরও বাড়ে। সঙ্ঘ নেতৃত্বের এক প্রতিনিধি ইন্ডিয়া টুডে-কে বলেন, “অমিত শাহজিকে আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। সহজেই এই ধরনের ভুল এড়ানো যেত।”
আরএসএস মনে করছে, বাংলাভাষীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির জন্য আত্মঘাতী প্রমাণ হবে। কারণ এতে শুধু তৃণমূল নয়, সমগ্র বাঙালি সমাজকে একরকম ক্ষুব্ধ করে তোলা হচ্ছে। সঙ্ঘ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, বিজেপির এই কৌশল আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শক্তি জোগাচ্ছে।




