কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা,২৭ অগস্ট :
মধ্যরাতে ফের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটল নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা লেকটাউনে। এলাকার বিখ্যাত হনুমান মন্দিরে ঢুকে চোরের দল মূর্তির গা থেকে গয়না খুলে নিয়ে যায় এবং দানপাত্র খালি করে চম্পট দেয়। মঙ্গলবার গভীর রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সৌভাগ্যবশত গোটা ঘটনাই ধরা পড়েছে মন্দিরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্দিরটির খ্যাতি বহুদিনের। প্রতিদিনই বহু ভক্ত সেখানে পুজো দিতে আসেন। বেদীর মাঝখানে বিরাজমান হনুমানজির বিশাল মূর্তি। তাঁর ডান দিকে রাম-সীতা, বাঁ দিকে রাধা-কৃষ্ণ এবং চারপাশে আরও একাধিক দেবতার মূর্তি স্থাপিত। প্রতিদিন ভক্তরা প্রণামী হিসেবে নগদ অর্থের পাশাপাশি নানা ধরণের উপহারও দিয়ে থাকেন। ফলে মন্দিরের ভেতরে সর্বদা মূল্যবান গয়না ও সামগ্রী জমা থাকে।
চুরি হওয়া রাতেই প্রায় চার দুষ্কৃতী মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ধীরেসুস্থে তারা মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ভিতরে তল্লাশি চালায়। এরপর মূর্তির গায়ে থাকা সোনা-রুপোর গয়না, মুকুট এবং দানপাত্রে থাকা অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে চম্পট দেয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, চুরি যাওয়া সামগ্রীর মোট মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে বলে অনুমান। যদিও নির্দিষ্ট হিসেব এখনও প্রকাশ করা হয়নি। মন্দির কর্তৃপক্ষ ফুটেজ তুলে দিয়েছে লেকটাউন থানার পুলিশের হাতে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। তাঁদের অভিযোগ, এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মন্দিরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা কার্যত নেই বললেই চলে। রাতে কোনও প্রহরী না থাকায় চোরেরা সহজেই ঢুকে পড়েছে। স্থানীয় এক ভক্ত বলেন, “এমন ঘটনা অত্যন্ত লজ্জার। ভগবানের মন্দিরে যদি নিরাপদ না হয়, তবে আর কোথায় নিরাপত্তা?”
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। খুব শীঘ্রই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে তদন্তকারীরা।
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—শহরের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা আদৌ কতটা সুরক্ষিত?




