কলকাতা টাইমস নিউজ :ডেস্ক : কলকাতা ,২৭ অগস্ট :
গড়চিরোলির জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর বড় সাফল্য, চলছে তল্লাশি অভিযান
ঘন জঙ্গলের ভেতর প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চলল গুলির লড়াই। বুধবার ভোররাত থেকে মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি-নারায়ণপুর সীমান্তবর্তী কোপারশি বনাঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মাওবাদী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে। দীর্ঘ লড়াই শেষে মৃত্যু হয় চার মাওবাদী সদস্যের। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক পুরুষ ও তিন মহিলা।
গড়চিরোলির পুলিশ সুপার নীলোৎপল জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র— একটি এসএলআর রাইফেল, দুটি ইনসাস রাইফেল এবং মোট ১,৩০৩টি কার্তুজ। তবে এখানেই অভিযান শেষ নয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই জঙ্গলে এখনও আরও মাওবাদী সদস্য লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই তল্লাশি ও কম্বিং অপারেশন অব্যাহত রয়েছে।
গোপন সূত্রে খবর আসে যে, কোপারশির ঘন জঙ্গলে একাধিক মাওবাদী সদস্য আশ্রয় নিয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকালে গড়চিরোলি পুলিশের সি-৬০ কমান্ডো দল অভিযান শুরু করে। শুরুতে গ্রাম এবং আশপাশের জঙ্গল ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। হঠাৎই মুখোমুখি হয়ে পড়ে উভয়পক্ষ। শুরু হয় দফায় দফায় গুলিবিনিময়, যা প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চলে। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতেই প্রাণ হারায় চার মাওবাদী।
এর আগেই গত ২০ অগস্ট ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়া ও নারায়ণপুর জেলায় বড় ধাক্কা খেয়েছিল মাওবাদীরা। সেদিন মোট ২৯ জন মাওবাদী সদস্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথার উপর মিলিয়ে মোট ৫৫.৫০ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা ছিল।
এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, মাওবাদী মতাদর্শ নিয়ে ধীরে ধীরে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে সদস্যদের মধ্যেই। অনেকেই বুঝতে পেরেছেন, এই আদর্শ ‘অমানবিক এবং ফাঁপা’। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি তাঁদের আকৃষ্ট করেছে। পুলিশের উদ্যোগে চলা পুনর্বাসন প্রকল্পও আত্মসমর্পণকে ত্বরান্বিত করছে। ফলে মাওবাদী সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসছেন অনেকেই।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, কোপারশি বনাঞ্চলে এখনও লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু মাওবাদী সদস্য। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখে চলছে ব্যাপক তল্লাশি। গড়চিরোলি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বাড়ানো হয়েছে টহলদারি।
এই ঘটনায় মাওবাদীদের ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া এবং সরকারের পুনর্বাসন প্রকল্পে তাঁদের আগ্রহ— উভয়ই যে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বদলাতে চলেছে, তা নিয়ে আশাবাদী প্রশাসন।




