কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা,২৮ অগস্ট :
আরজি কর ধর্ষণ–খুন মামলা – নির্যাতিতার মায়ের জখম প্রসঙ্গে -ডিভিশন বেঞ্চে যেতে পারে নতুন তদন্তের আবেদন !
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক–ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনেই (৯ অগস্ট) নবান্ন অভিযানে যোগ দেওয়া নির্যাতিতার মায়ের ওপর পুলিশের বর্বোরোচিত হামলার অভিযোগ ঘিরে নয়া বিতর্ক। নির্যাতিতার মা–কে কিড স্ট্রিটে ফেলে মারধরের ঘটনায় পুলিশের জমা দেওয়া রিপোর্টে সন্তুষ্ট নয় কলকাতা হাইকোর্ট।
শেক্সপিয়র সরণি থানার তরফে জমা দেওয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়— অভিযোগের কোনও সত্যতা মেলেনি। কিন্তু আদালত সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বুধবার রাজ্যকে কড়া ভাষায় প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “হাসপাতালের রিপোর্টে শুধু একটা কাগজ! মাথায় আঘাতের অভিযোগ, অথচ চিকিৎসার আর কোনও নথি নেই? এমনিতে রোগী গেলেই প্রাইভেট হাসপাতালগুলো কত পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে, সেখানে মাত্র একটা পেপার?”
রাজ্যের কৌঁসুলি জানান, নির্যাতিতার মা ঘটনার দিনেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যান এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের নির্দেশ— ওই বেসরকারি হাসপাতালকে চিকিৎসার যাবতীয় মূল নথি আগামী সোমবারের শুনানির দিন জমা দিতে হবে।
বুধবার বিচারপতি ঘোষের এজলাসে আরজি কর–কাণ্ডে একাধিক মামলার শুনানি ছিল। নির্যাতিতার মা–বাবা মূল মামলায় নতুন করে তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। বিচারপতি ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন— এক্ষেত্রে আবেদনটি ডিভিশন বেঞ্চে শোনা উচিত। তাঁর পর্যবেক্ষণ, “যেখানে সাজা হয়ে গিয়েছে, সেখানে ফের সিঙ্গল বেঞ্চে শুনানি হলে তা বিচারের পক্ষে উপযুক্ত হবে না। নতুন করে তদন্ত চাইলে এর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়তে পারে।”
আজ, বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে সিঙ্গল বেঞ্চ আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিতে পারে।
নির্যাতিতার মা–বাবা আবেদন করেছেন— তাঁদের যেন সেই জায়গায় যেতে দেওয়া হয়, যেখানে তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। শিয়ালদহ আদালত আগে এ আবেদন খারিজ করে জানায়, এ বিষয়ে হাইকোর্টেই আবেদন করতে হবে। বুধবার সেই আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি ঘোষ মত দেন— যেহেতু এ আবেদনও মূল মামলার নতুন তদন্ত আবেদনের সঙ্গে যুক্ত, তাই এটিও ডিভিশন বেঞ্চের শুনানি সাপেক্ষ।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই অবস্থান মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। পুলিশের রিপোর্টের অসঙ্গতি যেমন সামনে এসেছে, তেমনই মূল মামলায় পুনঃতদন্তের পথ খুলবে কি না, সেটিই এখন বিচারপতির নির্দেশের উপর নির্ভর করছে।




