কলকাতা টাইমস নিউজ :২৮ অগস্ট :
দেবজিৎ গাঙ্গুলী :
ভারতের উপর সরাসরি অভিযোগ আনলেন হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারো। তাঁর দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধ আসলে ‘‘মোদীর যুদ্ধ’’। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে ছাড়ে তেল কিনতে থাকায় মস্কোর যুদ্ধযন্ত্র আরও শক্তিশালী হচ্ছে, আর সেই খরচ বইতে হচ্ছে আমেরিকান করদাতাদের। নাভারো এমনকি ইঙ্গিত দেন, ভারত যদি অবিলম্বে রাশিয়ান তেল আমদানি বন্ধ করে, তবে আমেরিকার আরোপিত শুল্কের উপর ২৫ শতাংশ ছাড় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এক সাক্ষাৎকারে নাভারো স্পষ্ট বলেন, “শান্তির পথ আংশিকভাবে হলেও নয়াদিল্লির মাধ্যমে যায়।” তাঁর যুক্তি, ভারতের রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্য এই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে এবং শেষ পর্যন্ত আমেরিকান করদাতাদের পকেট থেকেই সেই খরচ মেটানো হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে। বুধবার থেকে নতুন এই শুল্ক কার্যকর হওয়ায় নয়াদিল্লির উপর চাপ বাড়ল। নাভারো বলেন, “খুব সহজ। ভারত যদি রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করে, তবে আগামীকাল থেকেই শুল্কে ২৫ শতাংশ ছাড় পেতে পারে।”
একদিকে তিনি নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, ‘‘মোদী এক মহান নেতা, ভারত একটি পরিণত গণতন্ত্র।’’, আবার অন্যদিকে ভারতের অবস্থানকে তিনি ‘‘আত্মম্ভরিতার প্রকাশ’’ বলে উল্লেখ করেন। নাভারোর বক্তব্য, “ভারত বলে, ওদের নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত, তারা কার কাছ থেকে তেল কিনবে সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু এই ঔদ্ধত্যই সমস্যা।”
নাভারো অভিযোগ তোলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে ছাড়ে তেল কিনে ভারত সরাসরি মস্কোর যুদ্ধযন্ত্রকে অর্থ জোগাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “রাশিয়ান তেল বিক্রি থেকে যে অর্থ আসে, তা দিয়ে ইউক্রেনে আরও মানুষ হত্যা করছে রাশিয়া। ফলে আমেরিকান করদাতাদের আরও বেশি সামরিক সহায়তা দিতে হচ্ছে ইউক্রেনকে।”
ভারতের উচ্চ শুল্কনীতি নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। নাভারোর অভিযোগ, ‘‘ভারতের বাণিজ্যনীতি আমেরিকার অর্থনীতির ক্ষতি করছে। এর ফলে মার্কিন শ্রমিক, কারখানা, ব্যবসা, আয় এবং মজুরি— সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর তারপর করদাতাদের আবার ইউক্রেনকে সাহায্য করতে হচ্ছে। এই কারণেই আমি বলছি এটা ‘মোদীর যুদ্ধ’।’’
গত সপ্তাহেই নাভারো ভারতের বিরুদ্ধে ‘‘তেল শোধনাগার মুনাফা’’র অভিযোগ এনেছিলেন। তিনি বলেন, ভারত রাশিয়ান তেল কিনে শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করে মুনাফা করছে। সেই অর্থ আবার রাশিয়া অস্ত্র বানাতে ব্যবহার করছে। আর আমেরিকান করদাতাদের বাড়তি সহায়তা দিতে হচ্ছে ইউক্রেনকে। নাভারোর ভাষায়, “এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”
স্পষ্টতই, মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর বার্তা ভারত-মার্কিন সম্পর্কের উপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। এখন দেখার, নয়াদিল্লি এই অভিযোগের জবাব কীভাবে দেয়।




