কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা,২৮ অগস্ট :
“অন্যায়ের কাছে মাথা নত নয়, আপস নয়”— ছাত্রযুবদের লড়াইয়ের ডাক
২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। তার মধ্যেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠা দিবস ঘিরে সরগরম শহরের মেয়ো রোড। সকাল থেকেই ছাত্রযুবদের ভিড় জমেছে সমাবেশস্থলে। দুপুর ১২টা থেকে শুরু হবে মূল সভা। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা ঘিরে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
দিনের শুরুতেই এক্স হ্যান্ডলে টিএমসিপি-র সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন—
“তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠা দিবসে আমি নতুন-পুরোনো সকলে জানাই জাতীয়তাবাদী অভিনন্দন। টিএমসিপি তৃণমূল পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বাংলার উন্নতি ও শক্তির লড়াইয়ে তারাও সমান অংশীদার। নবীন সহকর্মীদের বলব, কোনও অবস্থাতেই অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবে না। মাথা উঁচু করে বাঁচবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিটি লড়াইয়ে আমি সবসময় তোমাদের পাশে থাকব।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এক্স-এ লিখেছেন—
“পরিবর্তন, অগ্রগতি এবং সামাজিক ন্যায় বিচারের আন্দোলনে বাংলার যুব সমাজের ভূমিকা অনন্য। তরুণদের কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরা, তাঁদের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে টিএমসিপি সবসময় প্ল্যাটফর্মের কাজ করেছে।”

২১ জুলাই শহিদ দিবসের পর ফের তৃণমূলের ছাত্র সমাবেশে বাঙালি পরিচয় ও আত্মমর্যাদার আবহ তৈরি হয়েছে। সমাবেশে হাতে হাতে দেখা গিয়েছে প্ল্যাকার্ড— “জাতীয় সঙ্গীত বাংলাতেই রচনা হয়েছিল।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে টিএমসিপি-র জন্মদিনের অনুষ্ঠান শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং যুব সমাজকে একত্রিত করে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কৌশল। ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক, তৃণমূল নেতৃত্ব আসলে বিজেপি এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্লোগানকে আরও তীব্র করতে চাইছে।
সকাল ১১টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। দুপুরে প্রধান সভা মঞ্চে বক্তৃতা করবেন মমতা ও অভিষেক। তাঁদের বার্তা রাজ্য রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ নির্ধারণে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তা এখন সময়ই বলবে।




