spot_img
21 C
Kolkata
Tuesday, January 13, 2026
spot_img

দক্ষিণ কলকাতায় আধুনিক শ্মশান নির্মাণ, পুরসভা–বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে নতুন পরিকাঠামো !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা,২৮ অগস্ট :

দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে দক্ষিণ কলকাতার মানুষের। এবার হেস্টিংস সংলগ্ন দহিঘাটে গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক শ্মশান। কলকাতা পুরসভা ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার যৌথ উদ্যোগে প্রায় ৯২ কাঠা জমির উপর এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

নতুন শ্মশানে থাকবে পাঁচটি কাঠের চুল্লি এবং দুটি আধুনিক বৈদ্যুতিক চুল্লি। পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক চুল্লি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে তৈরি হবে, যা দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা নেবে। একসঙ্গে সাতটি মৃতদেহ সৎকার করার সুযোগ থাকবে এই নতুন পরিকাঠামোয়।

কলকাতা শহরের জনসংখ্যা ও মৃত্যুহারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শ্মশানগুলোর উপর চাপ। কেওড়াতলা, নিমতলা, কাশীপুর, সর্দারঘাটসহ পুরসভা পরিচালিত সাতটি শ্মশানে প্রতিদিনই দীর্ঘ সারি দেখা যায়। কখনও কখনও মৃতদেহ সৎকারে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে নতুন শ্মশান চালু হলে দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দাদের জন্য বড় স্বস্তি মিলবে বলে আশা প্রশাসনের।

কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান,

“বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্মশানগুলির উপর চাপ প্রবল। নতুন শ্মশান চালু হলে চাপ কমবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির কারণে মৃতদেহ সৎকারের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খল হবে।”

দহিঘাটের এই ৯২ কাঠা জমি ইতিমধ্যেই ৩০ বছরের জন্য কলকাতা পুরসভাকে ইজারা দিয়েছে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পে মোট খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এর আর্থিক দায়ভার বহন করছে নামী শিল্পপতিদের পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, যারা এর আগে কেওড়াতলা ও নিমতলার শ্মশান রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সামলেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণ শেষ হলে শ্মশান পরিচালনা পুরসভার হাতে থাকবে। তবে দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সামলাবে সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই প্রকল্প সম্পূর্ণ হবে।

ন’নম্বর বোরোর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস বলেন,

“গঙ্গার ধারে এই শ্মশান নির্মাণ দক্ষিণ কলকাতার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে। দ্রুত কাজ শুরুর দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে। প্রকল্প শেষ হলে কেওড়াতলার উপর চাপও অনেকটাই হালকা হবে।”

বড় শহরের চাহিদা, আধুনিক সমাধানবর্তমানে কলকাতার পুরসভার অধীনে সাতটি শ্মশান রয়েছে। দহিঘাটের এই নতুন কেন্দ্র চালু হলে শহরের শ্মশান সংখ্যা দাঁড়াবে আটটিতে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, এটি শুধু কেওড়াতলার চাপই কমাবে না, বরং দক্ষিণ কলকাতার মানুষের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks