spot_img
25 C
Kolkata
Sunday, December 7, 2025
spot_img

মমতার তোপে নির্বাচন কমিশন ও অমিত শাহ – তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা,২৮ অগস্ট :

বড়রা যদি ললিপপ খান, তবে মানায় না!জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এভাবেই বেনজির আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভা থেকে তিনি শুধু কমিশনকেই কাঠগড়ায় তুললেন না, একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তুললেন ‘পরিবারতন্ত্র’-এর অভিযোগ। মমতার ভাষায়, “তৃণমূল কংগ্রেস বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়বে না।”

কয়েকদিন আগেই দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, তারা সংবিধান মেনে নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। কিন্তু মমতার অভিযোগ, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র ধরা দিচ্ছে বাংলায়। তাঁর কথায়,
“নির্বাচন কমিশনের চেয়ারকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু কমিশন যদি কোনও দলের হয়ে কাজ করে, তা লজ্জার। এখন বাড়ি বাড়ি সার্ভে চলছে, কার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় তা খুঁজছে। সকলে সতর্ক থাকুন। নিজের তথ্য দেবেন না।”

মমতা আরও বলেন, নির্বাচন চলাকালীন কমিশন থাকলেও ভোট শেষ হলেই রাজ্য সরকার ফের নিজের জায়গায়। তাই কমিশনের নামে ভয় দেখিয়ে প্রশাসনকে চাপে ফেলার চেষ্টা বৃথা।

ভোটের মঞ্চে এদিন বিজেপিকে ‘ললিপপ সরকার’ বলে আখ্যা দেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বিজেপি। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন,
“আমাদের কাছে দুর্নীতির ফাইলভর্তি ভাণ্ডার আছে। প্রয়োজনে সব ফাঁস করে দেব।”

অতীতে বহুবার তৃণমূলকে ‘পরিবারতন্ত্র’-এর রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। এদিন সেই অস্ত্রই গেরুয়া শিবিরের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন মমতা। অমিত শাহকে নিশানা করে তিনি বলেন,
“আপনার ছেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট। রাজনীতিতে থাকলেও তাঁর দায়বদ্ধতা কোথায়? এত কোটি টাকার মামলা জড়ানো— এ-ই বা পরিবারতন্ত্র নয়?”

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিতর্কিত ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’। এই ছবির মাধ্যমে বাংলার ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি,
“বাংলাকে বদনাম করার জন্য টাকা দিয়ে সিনেমা বানানো হচ্ছে।”

জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফল প্রকাশে দেরি হওয়া প্রসঙ্গও টেনে আনেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মামলাকারী একদিকে আদালতে কেস করেন, আবার অন্যদিকে সরকারকে উদ্দেশ্য করে কুৎসা রটান। তাঁর ভাষায়, “ওরা আসলে ব্যাকডোর রাজনীতি করছে। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ আটকাচ্ছে।”

সভায় মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেন ছাত্রকল্যাণে তাঁর সরকারের সাফল্যের খতিয়ান। তিনি জানান—

  • ২০১১ সালের পর থেকে রাজ্যের আয় বেড়েছে সাড়ে পাঁচ গুণ।

  • এখনও পর্যন্ত সবুজ সাথী প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ছাত্রছাত্রী।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মেয়ো রোডের এই সভা থেকেই কার্যত আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের সুর বেঁধে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks