কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা,২৮ অগস্ট :
ওয়াশিংটনের আরোপিত নতুন শুল্কের অভিঘাত সামলাতে রপ্তানি বাজারে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক জানাল, ৪০টি দেশে বিশেষ প্রচারাভিযানের মাধ্যমে টেক্সটাইল বা বস্ত্র রপ্তানি বাড়ানোর কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পাল্টা শুল্ক নীতির ফলে ভারতীয় রপ্তানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল খাত। এই শিল্পে ৪.৫ কোটিরও বেশি মানুষ কাজ করেন। ফলে সরাসরি কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে আঘাত নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষত, মার্কিন বাজারে ভারতীয় রপ্তানির শেয়ার ৩৫ শতাংশ হলেও নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় ৩০–৩৫ শতাংশ দামের অসুবিধায় পড়েছে ভারত। এর ফলে শুধু পোশাক শিল্পেই প্রায় ১৫–২০ লক্ষ চাকরি হারানোর আশঙ্কা করছেন শিল্প মহল।
মার্কিন বাজারের ক্ষতি সামলাতে ভারত যে ৪০টি দেশকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তার মধ্যে রয়েছে— জার্মানি, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, কানাডা, মেক্সিকো, রাশিয়া, বেলজিয়াম, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও অস্ট্রেলিয়া। কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, এই দেশগুলির সম্মিলিত টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল আমদানির বাজার প্রায় ৫৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখানে ভারতের শেয়ার এখনও মাত্র ৫–৬ শতাংশ। ফলে সম্ভাবনার সুযোগ যথেষ্ট।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি দেশে আলাদা কৌশল নেওয়া হবে। লক্ষ্য থাকবে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য, টেকসই এবং নব্য উদ্ভাবনী বস্ত্র পণ্যের সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য বস্ত্র শিল্পের সংগঠনগুলি, এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল এবং বিদেশে ভারতীয় দূতাবাসগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের পরিসংখ্যান দপ্তর (DGCIS) জানিয়েছে, জুলাই ২০২৫-এ ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩.১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা গত বছরের তুলনায় ৫.৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি। এপ্রিল থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত মোট রপ্তানি ১২.১৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩.৮৭ শতাংশ বেশি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন শুল্ক কেবল টেক্সটাইলেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রভাব পড়ছে রত্ন ও গয়না, সামুদ্রিক চিংড়ি, চামড়া ও জুতো, পশুসম্পর্কিত পণ্য, কেমিক্যালস, বিদ্যুৎ ও যন্ত্রাংশ রপ্তানির উপরও। সব মিলিয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রপ্তানি এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শিল্প মহল।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দ্রুত বিকল্প বাজার তৈরি করা না যায়, তাহলে ভারতের রপ্তানি শিল্পে ভয়াবহ আঘাত আসতে পারে। তাই ৪০ দেশে নতুন প্রচার অভিযানকে ভারতের বস্ত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ টিকে থাকার লড়াই হিসেবেই দেখা হচ্ছে।




