কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা,২৮ অগস্ট :
শহরের আকাশছোঁয়া রেস্তোরাঁগুলোকে ঘিরে নতুন করে নিয়ম জারি করল কলকাতা পুরসভা। অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা রুখতে এবার থেকে কোনও রুফটপ রেস্তোরাঁয় খোলা আগুন জ্বালানো যাবে না। গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহারও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রান্না করতে হবে শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক ওভেনে।
বুধবার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর নতুন নির্দেশিকা ঘোষণা করেন। উপস্থিত ছিলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, কৃষিমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মা, পুর কমিশনার ধবল জৈন–সহ একাধিক আধিকারিক। বৈঠকের পর মেয়র স্পষ্ট জানিয়ে দেন—
-
নতুন কোনও রুফটপ রেস্তোরাঁর অনুমতি দেওয়া হবে না।
-
পুরোনো রেস্তোরাঁগুলোকে ১৫ দিনের মধ্যে শর্ত মানার অঙ্গীকারপত্র (মুচলেকা) জমা দিতে হবে।
-
নিয়ম না মানলে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার থাকবে পুরসভা, পুলিশ ও দমকলের যৌথ কমিটির হাতে।
পুরসভার নির্দেশিকায় যেসব বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে—
-
ছাদের অন্তত ৫০ শতাংশ খালি রাখতে হবে।
-
রাস্তার দিকের অংশ কোনও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে জরুরি অবস্থায় দমকলের মই সহজে পৌঁছতে পারে।
-
সিঁড়ি বা ছাদে কোনও জিনিস রাখা যাবে না।
-
আলাদা জরুরি সিঁড়ির ব্যবস্থা রাখতে হবে।
-
নিয়মিত ফায়ার অডিট বাধ্যতামূলক, না হলে বন্ধ হবে দমকলের রিনিউয়াল সার্টিফিকেট।
যদিও বৈদ্যুতিক ওভেন ব্যবহারের নির্দেশিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শহরের অনেক অগ্নিকাণ্ডই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ঘটে। সেক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক ওভেনও বিপদের কারণ হতে পারে। পুর কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, তিন মাস অন্তর ফায়ার অডিটের সময় যে কোনও খামতি ধরা পড়ে যাবে।
দমকলের এক প্রবীণ আধিকারিক বলেন,
“অতীতেও বহু বড় অগ্নিকাণ্ডের পর একাধিক কমিটি গড়া হয়েছে। কিন্তু সব সুপারিশ কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। শুধু কমিটি বা এসওপি থাকলেই হবে না, সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগও জরুরি।”
গত ২৯ এপ্রিল বড়বাজারের ঋতুরাজ হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। তার পরেই শহরের ৮০টিরও বেশি রুফটপ রেস্তোরাঁ অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ করে দেয় পুরসভা। তখনই ঘোষণা করা হয়েছিল, নতুন নিয়ম না আনা পর্যন্ত আর কোনও রেস্তোরাঁ খোলা যাবে না। প্রায় সাড়ে তিন মাস পর সেই নির্দেশিকাই কার্যকর হল।
মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান—
“কলকাতায় কোনও বাণিজ্যিক বা আবাসিক বহুতলের ছাদ আলাদা করে বিক্রি করা যাবে না। ছাদ ব্যবহার করার অধিকার সব বাসিন্দারই আছে। সেই নিয়মও এবার কার্যকর হবে।”
যেসব রুফটপ রেস্তোরাঁ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, তারা নিয়ম মানার অঙ্গীকার দিলে এবং তা যাচাইয়ের পর অনুমতি পেলে পুজোর আগেই ফের খোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতি তিন মাস অন্তর পুরসভা, পুলিশ ও দমকলের যৌথ তদন্তে দেখা হবে নিয়ম যথাযথ মানা হচ্ছে কি না।
এই সংস্করণটি সরাসরি তথ্যভিত্তিক হলেও বিশ্লেষণধর্মী দিকও রেখেছে, যাতে পাঠকরা শুধু খবরই নয়, প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক দুটোই পান।




