কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়াদিল্লি ,২৯ অগস্ট :
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো চলছে— আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ) ও বিজেপির সম্পর্কে কি ফাটল ধরেছে? বিজেপির আশানুরূপ সাফল্য না আসা এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের মন্তব্য ঘিরেই সেই জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়। তবে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে ভাগবত স্পষ্ট জানালেন, “সংগ্রাম থাকতে পারে, কিন্তু কোনও ঝগড়া নেই।”
লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির তুলনামূলক কম সাফল্যের পরেই আরএসএসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অনেকেই দাবি করেছিলেন, সংঘ এবার বিজেপিকে সরাসরি আগের মতো সমর্থন দেয়নি। মোহন ভাগবতের মন্তব্য সেই ধারণাকে আরও উস্কে দেয়। তিনি ইঙ্গিত দেন, নেতাদের উচিত ‘নির্বাচনী বুলি’-র বাইরে এসে বাস্তব সমস্যার সমাধানে মন দেওয়া। বিশেষ করে মণিপুরের সংঘাত প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য অনেকের চোখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি ‘অপ্রকাশ্য সমালোচনা’ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সামনে ভাগবত সব জল্পনা উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন,
“আমাদের প্রতিটি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় থাকে— তা রাজ্য সরকার হোক বা কেন্দ্রীয় সরকার। তবে ব্যবস্থার মধ্যেই কিছু অন্তর্দ্বন্দ্ব থাকে। এমনকি চেয়ারে বসা ব্যক্তি যদি শতভাগ আমাদের মানুষও হন, তবুও তাঁকে সেই ব্যবস্থার বাধাগুলি মাথায় রেখে কাজ করতে হয়। তিনি হয়তো করতে পারবেন, আবার নাও পারবেন। তাই তাঁকে স্বাধীনতা দিতে হয়। কোথাও কোনও ঝগড়া নেই।”
ভাগবতের এই বক্তব্যের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একাধিকবার বিজেপি-আরএসএসের সম্পর্কের দৃঢ়তা তুলে ধরেছেন।
-
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ: ১৫ অগস্ট লালকেল্লার প্রাচীর থেকে মোদী আরএসএস-কে বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও আখ্যা দেন। তিনি বলেন, সংঘের শতবর্ষ পূর্তি (অক্টোবর, বিজয়া দশমীর দিন) এক “গর্বের, সোনালি অধ্যায়।”
-
নাগপুর সফর: চলতি বছরের মার্চে প্রধানমন্ত্রী আরএসএসের সদর দফতরে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা কেশব বালিরাম হেডগেওয়ার ও দ্বিতীয় প্রধান এম এস গোলওয়ালকরকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। সেই সফরকে বিজেপি-আরএসএসের সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রকাশ হিসেবেই দেখা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি-আরএসএসের সম্পর্ক কখনও সরলরেখার মতো নয়, বরং জটিল ও বহুস্তরীয়। মোদীর নিজস্ব রাজনৈতিক যাত্রাপথও শুরু হয়েছিল সংঘের প্রচারক হিসেবে। আজ তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি-আরএসএস সম্পর্ককে ব্যক্তিগত ইতিহাসও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং নরেন্দ্র মোদীর প্রতীকী পদক্ষেপ— দু’টিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সম্পর্কের ভিত শক্তই আছে। সাময়িক মতভেদ বা ‘সংগ্রাম’ থাকলেও, মূল স্রোত একই দিকে বয়ে চলেছে। আরএসএস ও বিজেপি আপাতত জনসমক্ষে এক ‘একতাবদ্ধ’ চিত্রই তুলে ধরতে চাইছে।




