কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :টোকিও,২৯ অগস্ট :
জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী !
বুলেট ট্রেন থেকে কৌশলগত অংশীদারি— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে হবে আলোচনা
দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার জাপানে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী শনিবার পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন তিনি। ‘উদীয়মান সূর্যের দেশ’ থেকেই সরাসরি রওনা দেবেন চিনে, যেখানে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। কিন্তু চিন সফরের আগে জাপান সফরকে কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। ভারত ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করা এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষত প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে ভারত-জাপান যৌথ উদ্যোগে বুলেট ট্রেন তৈরির পরিকল্পনায়। সূত্রের খবর, ই১০ শিনকানসেন গোত্রের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতের জন্য উচ্চমানের বুলেট ট্রেন তৈরির বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনায় পৌঁছতে পারেন দুই দেশের নেতারা। এর পাশাপাশি জাপানি শিল্পমহলের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী, যেখানে ভারতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ভারতীয় পণ্য রপ্তানি বাজার প্রসারিত করাও আলোচনার অন্যতম অগ্রাধিকার। আমেরিকার শুল্ক নীতির জেরে ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের উপর চাপ বেড়েছে। ফলে বিকল্প বাজার খুঁজছে নয়াদিল্লি। জাপান সেই জায়গা পূরণ করতে পারে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেই বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর।
জাপানে ভারতের রাষ্ট্রদূত সিবি জর্জ সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, বৈঠকে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত কথা হবে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের। বিশেষ করে চতুর্দেশীয় অক্ষ ‘কোয়াড’ (ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া)-এর ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ কার্যপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনা প্রভাব কমানো।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কযুদ্ধ বর্তমানে ভারত-আমেরিকা কৌশলগত সম্পর্ককে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘কোয়াড’-এর অন্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্য জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টরের ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়ে আলোচনায় বসবেন মোদী ও জাপানের প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালে জাপান সফরে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। প্রায় সাত বছর পর ফের টোকিওর মাটিতে পা রাখলেন তিনি। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার ক্ষেত্রেই নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনীতির সমীকরণেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
সব মিলিয়ে, বুলেট ট্রেন থেকে শুরু করে বাণিজ্য, ভূরাজনীতি থেকে প্রযুক্তি— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই ভারত-জাপান সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর।




