কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,২৯ অগস্ট :
হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়ায় নিমদিঘি মোড়। ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের এই ব্যস্ত জংশনটি বহুদিন ধরেই যানজট, দুর্ঘটনা এবং অব্যবস্থার জন্য কুখ্যাত। এখন সেখানে তৈরি হচ্ছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজের নতুন ভবন। আগামী বিধানসভা ভোটের আগেই যার উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা। কলেজ চালু হলে এলাকায় মানুষের ভিড় বহুগুণ বাড়বে, আর তাতে যানজট চরমে পৌঁছবে বলেই আশঙ্কা করছে পুলিশ, প্রশাসন ও মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাই বহু প্রতীক্ষিত নিমদিঘি উড়ালপুল নির্মাণের প্রস্তাব আবারও সামনে এসেছে।
পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের মতে, ইতিমধ্যেই নিমদিঘি মোড়ে সারাদিন ভিড় লেগেই থাকে। একদিকে বাণীবন, অন্যদিকে উলুবেড়িয়া স্টেশনের রাস্তা। কাছেই ইএসআই হাসপাতাল, কিছু দূরে পানপুর মোড়, যেখান থেকে আমতা যাওয়া যায়। বিভিন্ন দূরপাল্লার বাসও দাঁড়ায় এখানে। ফলে স্থানীয় মানুষ থেকে যাত্রী—সবাইকে ঝুঁকি নিয়ে জাতীয় সড়ক পারাপার করতে হয়। এর ফলে একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে, প্রাণহানিও হয়েছে। নতুন মেডিক্যাল কলেজ চালু হলে মানুষের চাপ আরও বাড়বে, তখন এই রাস্তা কার্যত অচল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা।
ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এনএইচএআই) উড়ালপুল নির্মাণের প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিলেও জমি সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। উড়ালপুল এবং কানেক্টিং রাস্তা তৈরির জন্য যথেষ্ট জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন, আর সেখানেই আটকে রয়েছে প্রকল্প। এনএইচএআই-এর আধিকারিকরা সম্প্রতি এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, জমি সমস্যা সমাধান হলে উড়ালপুল নির্মাণে আর কোনো বাধা থাকবে না।
উলুবেড়িয়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ইনামুর রহমান বলেন,
“আমরা বারবার এনএইচএআই-কে জানিয়েছি। এটা ওদের দায়িত্ব। তাঁরা সেই দায়িত্ব পালন করছেন না।”
জেলা পুলিশের ডিএসপি (ট্র্যাফিক) বিদ্যাসাগর চৌবে জানান,
“নিমদিঘি মোড়ে প্রতিদিন অগণিত মানুষ যাতায়াত করেন। মেডিক্যাল কলেজ পুরোপুরি চালু হলে ভিড় আরও বাড়বে। মাসিক বৈঠকে আমরা বারবার এই বিষয়টি উত্থাপন করেছি।”
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ সনৎ ঘোষ বলেন,
“আমরা লিখিতভাবে উড়ালপুল বা আন্ডারপাস তৈরির প্রস্তাব দিয়েছি। মেডিক্যাল কলেজ চালু হলে এখানে যে চাপ তৈরি হবে, সেটি মাথায় রেখেই অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
যদিও কয়েকদিন আগে এনএইচএআই কর্তাদের এলাকায় পরিদর্শন ও মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন অনেকেই। তবে জমিজট না কাটলে প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চিত। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, “এই উড়ালপুল ছাড়া নিমদিঘি মোড়ের সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়।”
স্থানীয় বাসিন্দাদেরও একই দাবি— দ্রুত জমিজট মিটিয়ে উড়ালপুল নির্মাণ হোক। কারণ মেডিক্যাল কলেজের উদ্বোধন যদি আগামী বছরের মধ্যে হয়, আর উড়ালপুল না হয়, তবে নিমদিঘি মোড় কার্যত এক অচলাবস্থার নামান্তর হয়ে দাঁড়াবে।




