কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :পাটনা,২৯ অগস্ট :
বিহারের ভোটার তালিকায় মিলল নথির অসঙ্গতি। এক ধাক্কায় প্রায় ৩ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সন্দেহ, এদের মধ্যে বহুজন বাংলাদেশ, নেপাল, মায়ানমার কিংবা আফগানিস্তানের নাগরিক। বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়ায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম থাকার পরও নথি যাচাইয়ের সময় দেখা যাচ্ছে, বহু বাসিন্দার নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ছে। কেউ ঠিক মতো নথি জমা দেননি, কারও নথিতে গরমিল, আবার কেউ ভুল কাগজ দিয়েছেন। এমনকি বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের সময়ও পাওয়া গেছে বিদেশি নাগরিকদের কাছে ভারতীয় ভোটার কার্ড।
যাদের নথি সন্দেহজনক বা নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। হাজিরা দিতে হবে নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থানে, সঙ্গে আনতে হবে মূল নথিপত্র। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা— “মুখোমুখি কথা না বলে বা আসল নথি যাচাই না করে কোনও ভোটারের নাম কাটা হবে না।”
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ অগস্ট প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে ৭.২৪ কোটি ভোটারের। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৯৯.১১ শতাংশ নথি যাচাই হয়ে গিয়েছে। এখনও চলছে খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা। কমিশনের আশঙ্কা, নথি পরীক্ষার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
৩০ অগস্ট পর্যন্ত নথি জমা দেওয়ার সময়সীমা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১,৯৫,৮০২ জন ভোটার আবেদন জমা দিয়েছেন নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার জন্য। কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত তথ্য সামনে আসবে।
প্রশাসনের দাবি, বিহারে অবৈধভাবে বসবাস করা বিদেশি নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নাম থেকে গেলে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে বিপজ্জনক। এভাবে ভোটের প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই ভোটার তালিকা থেকে বিদেশি নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার কাজ চলছে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে।
যে সব ভোটারের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের কমিশনের নির্দিষ্ট করে দেওয়া ১১টি পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে আধার, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেশন কার্ড ইত্যাদি রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ভোটারদের হাতে সময় রয়েছে নথি প্রমাণের জন্য। এর পর আর কোনও অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না।
অর্থাৎ, বিহারের ভোটার তালিকা থেকে বিদেশি নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার কঠোর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকার যাচাই-পর্বেই প্রকাশ্যে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।




