spot_img
24.3 C
Kolkata
Friday, October 9, 2026
spot_img

আদালতের রায়ে খারিজ শোভনের বিবাহবিচ্ছেদ মামলা, রত্নার একত্রবাসের আর্জিও অগ্রাহ্য – তবুও ছেলের আবেগঘন আবেদন, ‘‘কামব্যাক পাপা’’

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,৩০ অগস্ট :

কলকাতার প্রাক্তন মেয়র এবং এক সময়ের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিবাহবিচ্ছেদের মামলার পরিসমাপ্তি ঘটল আলিপুর আদালতে। আট বছর ধরে চলা টানাপড়েনের পরে শুক্রবার আদালত জানিয়ে দিল— শোভন-রত্নার বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে না। একই সঙ্গে খারিজ হল রত্না চট্টোপাধ্যায়ের একত্রবাসের আর্জিও। অর্থাৎ, আইনি দিক থেকে রত্না এখনও শোভনের স্ত্রী হয়েই থাকবেন, তবে সংসার ভাগাভাগির কোনও সম্ভাবনা আপাতত নেই।

আট বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছিলেন শোভন। বিভিন্ন সময়ে শুনানি হয়েছে হাই কোর্ট ও নিম্ন আদালতে। শোভনের হয়ে শেষ পর্যায়ে সওয়াল করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, রত্না আদালতে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি সংসার টিকিয়ে রাখতে চান এবং স্বামীর সঙ্গে একত্রবাসের আর্জিও জানান। কিন্তু বিচারক শুক্রবার এক রায়ে উভয় পক্ষের দাবিকেই খারিজ করে দেন।

রায় ঘোষণার পরে স্বভাবতই খুশি রত্না। বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বলেন,

‘‘আট বছর ধরে লড়াই করেছি। আজ সেই লড়াইয়ের জয় হল। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অনেক সময় মহিলাদের ক্ষমতার কাছে হার মানতে হয়। আমি সেই বাঁধন ভেঙে জয় পেয়েছি। শুধু নিজের জন্য নয়, বাংলার প্রতিটি নারী এই রায়ের অংশীদার।’’

অন্যদিকে, শোভনের তরফ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই রায়ের ফলে শোভনের ব্যক্তিগত জীবনে স্থিতাবস্থা বজায় থাকলেও তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের উপর প্রভাব পড়তে পারে।

সবচেয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া এসেছে শোভন-রত্নার পুত্র ঋষি চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে। মা রত্নার জয়কে তিনি নারীর জয়ের প্রতীক বলে তুলে ধরেছেন। তবে একই সঙ্গে বাবার প্রতি তাঁর আবেগপ্রবণ আবেদনও স্পষ্ট। ঋষি বলেন,

‘‘প্লিজ পাপা, কামব্যাক পাপা। নাথিং ইজ টু লেট। উই উইল ফিক্স ইট।’’

গোলপার্কে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বসবাসরত শোভনকে পর্ণশ্রীর বাড়িতে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।

গত আট বছরে আদালতের প্রতিটি শুনানিতেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন শোভন, রত্না ও বৈশাখী। শোভনের পাশে আদালতে যেতেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রায়ই দু’জনকে রঙ মেলানো পোশাকে দেখা যেত। অন্যদিকে, রত্না হাজির হতেন ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে। মামলা চলাকালীন একবার শোভনের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, রত্না নাকি দুষ্কৃতীদের সাহায্যে হুমকি দিয়েছেন। পাল্টা রত্নার কটাক্ষ, ‘‘পাগলেও এ কথা বিশ্বাস করবে না।’’

আদালতের রায়ের পর শোভন-রত্নার আইনি সম্পর্ক অটুট থাকলেও সংসারভাগাভাগি বা নতুন করে মিলনের প্রশ্ন ঝুলে রইল। তবে ছেলের আবেগঘন আহ্বান কি শোভনকে আবার পারিবারিক বন্ধনে ফিরিয়ে আনবে? রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks