কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :টোকিও/নয়াদিল্লি ,৩০ অগস্ট :
চাঁদের দক্ষিণ মেরু অভিযানে ভারত-জাপান একসঙ্গে !
চন্দ্রযান-৫ মিশনে ঐতিহাসিক চুক্তি
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) এবং জাপান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সা (JAXA)-র যৌথ উদ্যোগে শুরু হচ্ছে চন্দ্রযান অভিযানের নতুন অধ্যায়। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাপান সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে সই হল চন্দ্রযান-৫ মিশনের জন্য বাস্তবায়ন চুক্তি (Implementing Arrangement)।
চন্দ্রযান-৫ (LUPEX – Lunar Polar Exploration Mission) মূলত চাঁদের দক্ষিণ মেরুর স্থায়ীভাবে ছায়াচ্ছন্ন অঞ্চল (Permanently Shadowed Region – PSR)-এ জল ও অন্যান্য উ挥নশীল পদার্থ (volatile materials) অনুসন্ধানের কাজ করবে।
-
এই মিশনের জন্য জাপানের H3-24L লঞ্চ ভেহিকল ব্যবহার করা হবে।
-
ইসরো তৈরি করবে চন্দ্রযানের ল্যান্ডার, আর সেই ল্যান্ডার বয়ে নিয়ে যাবে জাপানে নির্মিত রোভার।
-
ইসরো একাধিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিও তৈরি করছে, যা চাঁদের মেরু অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা (in-situ analysis) চালাবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী জাপানের সংবাদপত্র দ্য ইয়োমিউরি শিম্বুন-কে সাক্ষাৎকারে বলেন—
“ভারত ও জাপান হাতে হাত মিলিয়ে চন্দ্রযান সিরিজের পরবর্তী অধ্যায়ে পা রাখছে। এই অভিযান আমাদেরকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর স্থায়ী ছায়াচ্ছন্ন অঞ্চল সম্পর্কে নতুন তথ্য দেবে।”
তিনি আরও যোগ করেন –
“আমাদের এই সরকার-টু-সরকার সহযোগিতা (G2G collaboration) শুধু গবেষণার পরিধি বাড়াচ্ছে না, বরং দুই দেশের শিল্প ও স্টার্টআপদের জন্যও এক নতুন সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে। ল্যাব থেকে লঞ্চপ্যাড, গবেষণা থেকে বাস্তব প্রয়োগ—উদ্ভাবনের প্রবাহ এখন দুই দিকেই হচ্ছে।”
মোদীর মতে, ভারত ও জাপানের বিজ্ঞানীরা একসঙ্গে কাজ করে মহাকাশ বিজ্ঞানের নতুন সীমান্ত উন্মোচন করবেন।
তিনি বলেন –
“চন্দ্রযান-৩ এর ঐতিহাসিক দক্ষিণ মেরু অবতরণের পর ভারত প্রমাণ করেছে যে মহাকাশই চূড়ান্ত সীমান্ত নয়—এটাই আমাদের পরবর্তী সীমান্ত। আমাদের অংশীদারিত্ব শুধু মহাকাশের দিগন্ত প্রসারিত করবে না, বরং কৃষি, দুর্যোগ মোকাবিলা, যোগাযোগসহ দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যৌথ উদ্যোগ কেবল বৈজ্ঞানিক গবেষণাকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে না, বরং ভারত-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্ককেও আরও মজবুত করবে। চন্দ্রযান-৫ মিশন এশিয়ার মহাকাশ প্রতিযোগিতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।




