কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :শ্রীনগর, ৩০ অগস্ট :
টানা এক সপ্তাহের প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত জম্মু-কাশ্মীর। পাহাড়ি ধস, মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হঠাৎ বন্যায় একের পর এক প্রাণহানি ঘটছে। শুক্রবারের হিসেব অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৭ জন রিয়াসি জেলায় এবং ৪ জন রামবান জেলায়। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকজন।
রিয়াসি জেলার মহোর এলাকার প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামে ভয়াবহ ভূমিধস আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে মাটির স্রোতে ভেসে যায় বহু বাড়ি। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে এখনও পর্যন্ত ৫ জনের দেহ উদ্ধার করেছেন। বাকি দু’জনের দেহ ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে রয়েছে বলে আশঙ্কা। একাধিক গ্রামে এখনো মানুষ আটকে আছেন। রাতদিন চলছে উদ্ধারকাজ।
অন্যদিকে রামবান জেলার রাজগড় পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা ঘটে। আকস্মিক বন্যার জেরে কয়েক মুহূর্তে ভেসে যায় বহু কাঁচা ও পাকা বাড়ি। প্রশাসন জানিয়েছে, এই ঘটনায় অন্তত ৪ জন মারা গিয়েছেন এবং আরও ৪ জন নিখোঁজ। দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। সেনা, এনডিআরএফ ও স্থানীয় প্রশাসন মিলে রাতভর চলছে তল্লাশি অভিযান।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এক্স ( টুইটার)-এ পোস্ট করে জানান –
“ডিসি রামবানের সঙ্গে কথা বলেছি। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, একজন নিখোঁজ রয়েছেন। কোনও আহতের খবর নেই। উদ্ধারকাজ জারি রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সবরকম সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। আমি ঘটনাস্থলের খোঁজখবর রাখছি।”
টানা এক সপ্তাহ ধরে প্রবল বৃষ্টিপাত চলছে জম্মু-কাশ্মীরে। পাহাড়ি ঝরনা ফুলে উঠেছে, নদী উপচে পড়ছে গ্রামে। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক, যা রাজ্যের একমাত্র সর্বকালীন সড়ক সংযোগ, টানা পঞ্চম দিনের জন্য বন্ধ রয়েছে। উধমপুর জেলার জাখেনি থেকে চেনানি পর্যন্ত ভূমিধসে আটকে পড়েছেন প্রায় ২,০০০ গাড়ি। এছাড়া জম্মু অঞ্চলের অন্তত ৯টি আন্তঃজেলা সড়ক বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এর আগে এই সপ্তাহেই কথরার বৈষ্ণোদেবী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ি ধসে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তীর্থযাত্রার পথ ভেসে গিয়েছিল পাহাড় ভাঙনের ফলে। এখন ফের রিয়াসি ও রামবানের বিপর্যয় স্থানীয় মানুষদের আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে।
আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই শুক্রবারের জন্য পুঞ্চ, রিয়াসি, রাজৌরি, কিশতওয়ার ও উধমপুরে ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করেছে। শনিবার ও রবিবারের জন্য পুঞ্চ, কিশতওয়ার, জম্মু, রামবান ও উধমপুরে অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আরও ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রবল বৃষ্টি, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ফলে বহু গ্রাম এখন কার্যত মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। প্রশাসন আটকে পড়া মানুষদের জন্য ত্রাণশিবির খোলার পাশাপাশি নৌকা ও উদ্ধারকর্মীদের সাহায্যে খাদ্য, ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছে। তবে আবহাওয়া আরও খারাপ হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জম্মু-কাশ্মীরে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি বিপর্যয় রাজ্যবাসীর জীবনে নতুন সংকট তৈরি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও সেনা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তবে প্রকৃতির এই তাণ্ডব আপাতত থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।




