কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা, ৩০ অগস্ট :
জম্মু-কাশ্মীরে টানা প্রবল বৃষ্টিপাত, মেঘবিস্ফোরণ ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত জনজীবন। আগস্টের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যু হয়েছে শতাধিক মানুষের। শনিবারই আরও ১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে সরকারি পরিসংখ্যান জানাচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১১৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়ে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিডিপি)-র প্রধান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিপর্যয়ের কালানুক্রম
-
১৪ আগস্ট, কিশ্তওয়ার জেলা: চিসোটি গ্রামে ভয়াবহ মেঘবিস্ফোরণে মৃত্যু হয় অন্তত ৬৫ জনের। ৩৪ জন নিখোঁজ হন। প্রাণে বাঁচানো হয় ১৬৭ জনকে।
-
কয়েক দিন পর, কাঠুয়া ও ডোডা জেলা: মেঘবিস্ফোরণ ও ভূমিধসে প্রাণ হারান ১১ জন। আহত হন আরও ৪ জন।
-
কুলগাম: কিশ্তওয়ারের ঘটনার পরদিনই সেখানে মেঘবিস্ফোরণে এক জনের মৃত্যু ও আরেক জনের আহত হওয়ার খবর মেলে।
-
২৬ আগস্ট, অর্ধকুওয়ারি অঞ্চল: ভয়াবহ ভূমিধসে ৩৬ জন তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়, আহত অন্তত ১০ জন।
অব্যাহত প্রবল বর্ষণ, ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যায় রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, ভেঙে পড়েছে সেতু, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তাঘাট ও অন্যান্য অবকাঠামো। সরকারি অনুমান অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই কয়েক বিলিয়ন টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে।
মুফতির দাবি
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ মেহবুবা মুফতি লেখেন,
“সাম্প্রতিক বন্যা, মেঘবিস্ফোরণ ও ভূমিধস জম্মু-কাশ্মীরে ব্যাপক ধ্বংস ডেকে এনেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জম্মুই। অসংখ্য প্রাণহানি ঘটেছে, বাড়িঘর ভেঙে গিয়েছে, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে।”
তিনি কেন্দ্রকে আহ্বান জানান ২০১৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর যেভাবে বিশেষ ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল, সেভাবেই অবিলম্বে একটি সমন্বিত ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করার জন্য। মুফতির মতে, এবারে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন জম্মুর প্রতি, কারণ সর্বাধিক ক্ষতি হয়েছে এই অঞ্চলে।
পিডিপি নেত্রী আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ও জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় না ঘটলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা আরও বাড়বে। তাই জরুরি ভিত্তিতে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।




