কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,৩০ অগস্ট :
বাম ছাত্র সংগঠন সারা ভারত ছাত্র ফেডারেশন (SFI)-এর দমদম এলাকার এক ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠল। অভিযোগকারিণী এক তরুণী বাম কর্মী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে শ্লীলতাহানি ও কুপ্রস্তাবের শিকার হতে হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, তাঁকে ব্যবহার করে সংগঠনের অন্য এক নেতার বিরুদ্ধে ‘ভুয়ো অভিযোগ’ সাজানোরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারিণী দুর্গাপুরের বাসিন্দা হলেও পড়াশোনার কারণে দমদমে থাকেন এবং স্থানীয়ভাবে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ধীরে ধীরে পরিচয় ঘটে জেলা স্তরের কয়েকজন নেতার সঙ্গে। তরুণীর অভিযোগ, SFI-এর রাজ্য কমিটির এক সদস্য নিয়মিত তাঁকে অশালীন বার্তা পাঠাতেন, ফাঁকা ফ্ল্যাটে দেখা করার জন্য চাপ দিতেন। এর পাশাপাশি তাঁকে প্ররোচিত করা হয়েছিল, যাতে আঞ্চলিক কমিটির আরেক সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা শ্লীলতাহানির মামলা সাজানো যায়।
তরুণী তাঁর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, “সংগঠনের ভেতরে থাকা এই ধরনের পোটেনশিয়াল রেপিস্টরা মহিলা কমরেডদের জন্য সরাসরি হুমকি।” তিনি নেতৃত্বকে আবেদন জানিয়েছেন, এমন নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
বিতর্কিত ঘটনার পরেই সংগঠনের রাজ্য কমিটি নড়েচড়ে বসেছে। রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযোগকারিণীর সঙ্গে সংগঠনের কথা হয়েছে। অভিযোগ ওঠার দিন থেকেই সাংগঠনিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, “অভিযোগকারিণীর বক্তব্য আমরা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। প্রভাবশালী নেতা হোক বা সাধারণ কর্মী—কোনও অভিযোগই আমরা এড়িয়ে যাই না।”
SFI নেতৃত্ব আরও জানায়, তদন্ত প্রক্রিয়া যাতে অযথা দীর্ঘসূত্রিতা না পায়, সেই দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রথম নয়। চলতি বছরের শুরুতেই সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে এক মহিলা সাংবাদিক শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছিলেন। দলের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি সে অভিযোগ খতিয়ে দেখে। যদিও প্রথমে তাঁকে সাসপেন্ড করা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। ফলে একের পর এক যৌন হেনস্থার অভিযোগ দলের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, SFI নিয়মিত ‘থ্রেট কালচার’-এর বিরুদ্ধে পথে নামছে। অথচ সংগঠনের ভেতরে থাকা যৌন হয়রানির ঘটনাগুলি রোখা হচ্ছে না। তাঁর কথায়, “যখন সংগঠনই মহিলাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, তখন সাধারণ মানুষকে কীভাবে ভরসা দিতে পারবে?”
বর্তমানে তদন্ত চলছে। জেলা স্তরের ওই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে এ ঘটনার ফলে আবারও বাম ছাত্র সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণ ও নারী সুরক্ষা বিষয়ক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।




