কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কানপুর ,৩০ অগস্ট :
শহরের বুকে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। শুক্রবার সকালে কলকাতার প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে চড়াও হয় একদল বিজেপি সমর্থক। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহ এবং প্রতীক পান্ডের নেতৃত্বেই ঘটে এই হামলা। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে রাকেশ প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন, “আজকের ঘটনা গোটা দেশে নজির হয়ে থাকবে।”
সকাল সওয়া ১১টা নাগাদ বিধান ভবনের বাইরে হাতে বিজেপির পতাকা নিয়ে পৌঁছন সমর্থকরা। অভিযোগ, তাঁরা প্রথমে দফতরের বাইরে ঝোলানো রাহুল গান্ধীর ছবিতে কালি মাখান। তারপর খোলা গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে দফতরের বাইরে এসে কংগ্রেস নেতাদের ছবি ও পতাকা পোড়ানো হয়।
ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা গেছে, রাকেশ সিংহ এবং প্রতীক পান্ডে উপস্থিত ছিলেন ঘটনাস্থলে। তবে তখন প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে খুব বেশি নেতা বা কর্মী উপস্থিত না থাকায় বড় ধরনের শারীরিক সংঘর্ষ হয়নি।
ঘটনার পরপরই এন্টালি থানায় এফআইআর দায়ের করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে রাকেশ সিংহ ও প্রতীক পান্ডের। কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছেন, পুলিশ তাঁদের আশ্বস্ত করেছে যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে ই-মেলের মাধ্যমে গোটা ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাক্ষাতের সময়ও চাওয়া হয়েছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শুক্রবার মৌলালি মোড়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। শনিবার বিধান ভবন থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে সংগঠন।
দলীয়ভাবে বিজেপি ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে অশ্রাব্য মন্তব্য করে চলেছেন। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জরুরি। তবে কোনও দলের দফতরে গিয়ে এভাবে কর্মসূচি করা বিজেপি সমর্থন করে না।”
বিহারের দ্বারভাঙায় সম্প্রতি কংগ্রেসের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এক যুবক। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা তৈরি হয়। বিজেপির দাবি, সেই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে রাকেশ সিংহের নেতৃত্বে বিধান ভবনে এই আন্দোলন হয়।
তৃণমূল কংগ্রেস হামলার নিন্দা করলেও অবস্থান রেখেছে কৌশলী। দলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ওই ধরনের মন্তব্য করা উচিত হয়নি। তবে রাজনৈতিক দলের দফতরে হামলাও সমর্থনযোগ্য নয়। বিজেপি নেতারা প্রতিদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেন, যদি একই আচরণ তাঁদের ক্ষেত্রে শুরু হয়, তখন কী করবেন?”
ঘটনার নিন্দা করেছে সিপিএমও। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “কলকাতার মতো শহরে এমন ঘটনা ঘটে যেতে পারে, এটা অবিশ্বাস্য।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন পশ্চিমবঙ্গে নতুন সংঘাতের জন্ম দিল। প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে বিজেপির প্রকাশ্য হামলা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াবে বলেই অনুমান।




