কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব প্রতিবেদন :কলকাতা ,৩০ অগস্ট :
বিস্তারিত দেবজিৎ গাঙ্গুলির কলমে :
আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্দরমহলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত ঘটল। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ডিসেম্বর মাসে ভারত সফরে আসতে চলেছেন। ক্রেমলিন সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণ তিনি ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছেন। তবে সফরের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও স্থির হয়নি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর প্রায় আড়াই বছর পর এটাই হবে পুতিনের প্রথম ভারত সফর।
পুতিনের এই সফরের প্রেক্ষাপট আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে মার্কিন শুল্ক আরোপের ঘটনায়। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন। এর ফলে মার্কিন বাজারে মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, রাশিয়া থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল আমদানি করে ভারত নাকি পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধকে অর্থসাহায্য করছে।
তবে নয়াদিল্লি এই অভিযোগ সাফ অস্বীকার করেছে। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—তেল আমদানি সম্পূর্ণরূপে বাজারভিত্তিক সিদ্ধান্ত। জাতীয় স্বার্থকেই এখানে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। উপরন্তু ভারত মনে করিয়ে দিয়েছে, ইউরোপ-সহ একাধিক দেশ এখনও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। তাই একমাত্র ভারতের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।
এই ইস্যুতে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, মার্কিন শুল্ক আরোপ ‘অন্যায্য’ এবং ‘দ্বিচারিতা’। রাশিয়ার বক্তব্য, যদি আমেরিকার বাজার ভারতের পণ্যের জন্য বন্ধ হয়, তবে রাশিয়া নিজেকে বিকল্প বাজার হিসেবে প্রস্তুত রাখতে চায়। এভাবে উভয় দেশ পরস্পরের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করার বার্তাই দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, আসন্ন সফরে জ্বালানি, অর্থনীতি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে মুখ্য। সোভিয়েত আমল থেকেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে রাশিয়া ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সহযোগী। বর্তমানে দুই দেশের সামরিক প্রযুক্তি বিনিময়, পরমাণু শক্তি সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি তেল ও গ্যাস সরবরাহ চুক্তি নিয়ে গভীর আলাপ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এই সফরের আগেই সেপ্টেম্বরে চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে মোদী-পুতিন বৈঠক হওয়ার কথা। তবে ডিসেম্বরের সফর নিঃসন্দেহে বড় বার্তা বহন করছে। মার্কিন চাপ ও বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও নয়াদিল্লি-ক্রেমলিন সম্পর্ক যে স্থিতিশীল, সেটাই প্রকাশ পাবে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যত জটিল হচ্ছে, পুতিনের ভারত সফর ততই কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। আমেরিকার শুল্ক চাপের জেরে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক টানাপোড়েনের মুখে দাঁড়ালেও, মস্কোর সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতা যে অব্যাহত, তা-ই স্পষ্ট হয়ে উঠছে আসন্ন সফরের প্রেক্ষাপটে।




