কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :রাঁচি , ৩১অগস্ট :
ঝাড়খণ্ডে প্রাক্তন মন্ত্রী ও স্ত্রীর কারাদণ্ড
অবৈধ জমি কেনাবেচা মামলায় সিবিআই বিশেষ আদালতের রায়
১৫ বছর পুরনো অবৈধ জমি লেনদেন মামলায় ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মন্ত্রী এনশ এক্কা ও তাঁর স্ত্রী মেনন এক্কাকে সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করল সিবিআই বিশেষ আদালত। আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা জরিমানাও করেছে।
একই মামলায় রাঁচির তৎকালীন ভূমি সংস্কার উপসমাহারকর্তা (Land Reforms Deputy Collector) কার্তিক প্রভাতকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানার রায় দিয়েছে আদালত। জরিমানা অনাদায়ে প্রতিটি দোষীকে অতিরিক্ত এক বছরের সাজা ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে এনশ এক্কা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়ো ঠিকানা ব্যবহার করে আদিবাসী জমি কেনাবেচার অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন। চোটানাগপুর টেন্যান্সি (CNT) আইনের সরাসরি লঙ্ঘন করে তিনি একাধিক জমি ক্রয় করেন। তদন্তে উঠে আসে, সরকারি আধিকারিকদের যোগসাজশে ওই লেনদেন করা হয়েছিল।
প্রসিকিউশনের তরফে দাবি করা হয়, তৎকালীন ভূমি সংস্কার উপসমাহারকর্তা কার্তিক প্রভাত সরাসরি এই অবৈধ লেনদেনে সহায়তা করেছিলেন। তদন্তে দেখা যায়, মেনন এক্কার নামে প্রচুর সম্পত্তি কেনা হয়েছিল—যার মধ্যে রয়েছে হিনুতে ২২ কাট্টা জমি, অরমাঞ্জহিতে ১২ একর জমি, নিয়োরিতে ৪ একর জমি এবং চুটিয়ার সিরামতোলি মৌজায় ৯ ডেসিমাল জমি।
গত শুক্রবারই সিবিআই বিশেষ আদালত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করেছিল। শনিবার সাজা ঘোষণার শুনানি শেষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই রায় দেওয়া হয়। আদালত জানায়, সিবিআই সমস্ত অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
এটি এনশ এক্কার প্রথম দণ্ড নয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। এর আগে প্যারা-শিক্ষক হত্যাকাণ্ড, অর্থপাচার মামলা এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তি মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এভাবে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এটি চতুর্থ দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝাড়খণ্ডে সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে জমি দখলের এক নকশা উন্মোচিত হয়েছে এই রায়ের মাধ্যমে। আদালতের এই কঠোর রায় ভবিষ্যতে রাজ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে জমি লেনদেনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হবে।




