spot_img
21 C
Kolkata
Tuesday, January 13, 2026
spot_img

তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা গ্রেফতার: বাবার তোপের মুখে ছেলে, আদালত চত্বরে বিস্ফোরক মন্তব্য !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা , ৩১অগস্ট :

তৃণমূলের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা আবারও খবরের শিরোনামে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর শনিবার আদালত চত্বরে তিনি মুখ খোলেন। বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন নিজের পারিবারিক সম্পদ, ব্যবসা এবং বাবার তীব্র সমালোচনা নিয়েও।

শনিবার ইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় জীবনকে বিচারভবনের বিশেষ আদালতে হাজির করানো হয়। আদালত তাঁকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জীবন বলেন,
“আমরা ব্যবসায়ী পরিবারের লোকজন। আমাদের টার্নওভার কোটি কোটি টাকা। বাবা কেন বলেছেন জানি না। সেটা বাবার ব্যাপার।”

তিনি আরও দাবি করেন, ছোট থেকেই তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। চালকল, রেশন বিলি, কোল্ড স্টোরেজ—এসব তাঁদের পুরনো পারিবারিক কাজ।
“আমরা বনেদি বংশের,” বলেন তিনি।

জীবনের বাবা বিশ্বনাথ সাহা, যিনি দীর্ঘদিন ব্যবসায়ী মহলে পরিচিত, ছেলেকে নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন,

  • জীবনের জামিন পাওয়া উচিত হয়নি।

  • তাঁর বিপুল সম্পত্তির সবটাই ‘অসৎ পথে’ অর্জিত।

  • জীবন হলেন পরিবারের “বংশের কলঙ্ক।”

বিশ্বনাথের দাবি, ছেলের রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকেই চরিত্রের আমূল পরিবর্তন ঘটে। সাধারণ পরিবারের ছেলে থেকে রাজনীতির ক্ষমতার সুযোগে জীবন নাকি জমি দখল, দুর্নীতি এবং দাপট দেখানোর পথে হাঁটেন। পারিবারিক সম্পত্তিও হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

২০২৩ সালে সিবিআই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল জীবন। পরে সুপ্রিম কোর্টে জামিন পান। কিন্তু ২৫ অগস্ট ফের ইডির হাতে গ্রেফতার হন তিনি।

আদালত চত্বরে জীবন জানান,
“আমার ধারণা ছিল জামিন পাওয়ার পর ইডি আমাকে নেবে। এটা ওদের নিয়ম। তবে ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে কিছু বলব না।”

অভিযোগ রয়েছে, ইডির হানা দেওয়ার সময় বাড়ির পিছন দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন জীবন। প্রায় ১০০ মিটার দৌড়ে ধরা পড়েন তদন্তকারীদের হাতে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“সকাল সাড়ে সাতটায় হঠাৎ ইডি এলে কী করব? আমি কি পালাব? আমি তো বিধায়ক।”

ইডির দাবি, জীবন ও তাঁর স্ত্রী টগরি সাহার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একাধিকবার সন্দেহজনক অর্থ জমা পড়েছে।

  • মোট অঙ্ক ৪৬ লক্ষ টাকার বেশি।

  • এর মধ্যে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা মাত্র চার মাসে (সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০২০) জমা পড়ে টগরির অ্যাকাউন্টে।

এ নিয়ে জীবন বলেন,
“স্ত্রীর অ্যাকাউন্টের টাকা সাত বছরের। ভিডিও, কাগজ সব ভুয়ো বানানো হবে। আমরা তো বিধায়ক।”

রাজনৈতিক মহলে সকলেই জানতেন, জীবন এবং তাঁর বাবা বিশ্বনাথের সম্পর্ক বরাবরই সুসম্পর্কপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে বাবার অভিযোগে চিত্র পাল্টে গেছে। একদিকে বিশ্বনাথ ছেলেকে দুর্নীতিবাজ ও কলঙ্ক বলেছেন, অন্যদিকে জীবন দাবি করছেন, তাঁদের পরিবার বনেদি ব্যবসায়ী পরিবার, যেখানে কোটি কোটি টাকার টার্নওভার স্বাভাবিক।

এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব এখন রাজনৈতিক মহলেও চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks