spot_img
25 C
Kolkata
Sunday, December 7, 2025
spot_img

বিহারে ইন্ডিয়া জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তেজস্বীর ঘোষণা, রাহুল-অখিলেশের উপস্থিতিতে বাড়ল রাজনৈতিক জল্পনা !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :পাটনা , ৩১অগস্ট :

বিহারের রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য। শনিবার আড়ায় আয়োজিত ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’র সমাপ্তি মঞ্চে দাঁড়িয়ে জনতার সামনে নিজেকে ইন্ডিয়া জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দিলেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। পাশে তখন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। যদিও ইন্ডিয়া জোট এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তেজস্বীর ঘোষণায় সিলমোহর দেয়নি, তবু এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন তুলেছে।

সেই সভায় তেজস্বীর কটাক্ষের নিশানায় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। তিনি বলেন,
“নীতীশজি আসলে ডুপ্লিকেট মুখ্যমন্ত্রী। আমি যা করি, উনি সেটাই নকল করেন। তেজস্বী এগিয়ে চলে, সরকার পিছনে হাঁটে।”

এরপর জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি –
“আপনারা কি অরিজিনাল মুখ্যমন্ত্রী চান, নাকি ডুপ্লিকেট মুখ্যমন্ত্রী?”
উত্তর আসার আগেই নিজেকে ‘অরিজিনাল’ মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করে দেন তেজস্বী।

তেজস্বীর এই ঘোষণার সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব প্রকাশ্যে সমর্থন জানান তেজস্বীকে। তাঁর কথায়,

“তেজস্বী ইতিমধ্যেই নিজেকে যোগ্য নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন। রেকর্ডসংখ্যক চাকরি দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। ফলে তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য প্রার্থী।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ঘোষণা শুধু জনসভায় বক্তব্য নয়, বরং কংগ্রেসের প্রতি আরজেডির শক্তি প্রদর্শনেরও ইঙ্গিত। সূত্রের খবর, বিহারে কংগ্রেস সমান আসনে লড়াই করতে চাইছে আরজেডির সঙ্গে। কিন্তু ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৭০টি আসনে লড়লেও মাত্র ১৯টিতে জয় পায়। এর ফলে মহাজোটের মোট আসন সংখ্যা কমে যায়। যদিও আরজেডিই একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে।
এই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, তেজস্বী বোঝাতে চাইছেন—বিহারে ইন্ডিয়া জোটের ভিত আরজেডি, এবং শেষ কথা বলবে তাঁরাই।

তেজস্বীর ঘোষণার পর এখন প্রশ্ন উঠছে, ইন্ডিয়া জোট আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মেনে নেবে কি না। যদি মেনে নেয়, তবে রাজনীতির ময়দানে স্পষ্ট বার্তা যাবে-বিহারের নেতৃত্ব তেজস্বীর হাতে। তবে যদি কংগ্রেস আসন বণ্টন ও নেতৃত্বের সমীকরণে আপত্তি তোলে, তবে জোটে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হতে পারে।

সব মিলিয়ে, আড়ার মঞ্চে তেজস্বীর এই আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা শুধু রাজনীতির অঙ্কই নয়, বরং ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যতের দিকনির্দেশও বহন করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks