কলকাতা টাইমস নিউজ : কলকাতা , ৩১অগস্ট :
বিস্তারিত দেবজিৎ গাঙ্গুলির কলমে :
কলকাতার রাস্তায় প্রতিদিনই ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগ থেকে শুরু করে জরিমানা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা ক্ষোভ শোনা যায়। কিন্তু শনিবার বিকেলের এক ঘটনা যেন উল্টে দিল সেই প্রচলিত ধারণা। শ্যামবাজার ফাইভ পয়েন্টে কলকাতা পুলিশের এক মানবিক মুখ সামনে এল, যা সকলকেই ভাবিয়ে তুলল।
শনিবার বিকেল প্রায় ৪টে। ভূপেন বোস রোড থেকে এক মহিলা দ্রুত হেঁটে আসছিলেন শ্যামবাজার ফাইভ পয়েন্টের দিকে। উদ্দেশ্য ছিল সামনে দাঁড়ানো একটি বাস ধরার। কিন্তু তাড়াহুড়োয় কালীবাড়ির মোড়ে বাসে ওঠার সময় আচমকা পা পিছলে পড়ে যান তিনি। তখনো বাসের গতি পুরোপুরি থামেনি। ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে ওই মহিলাকে রক্ষা করেন কর্তব্যরত কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট তুহিন রায়চৌধুরী। তিনি দ্রুত বাসটি থামিয়ে ফেলেন এবং অন্যান্য পুলিশকর্মীদের সহায়তায় মাটিতে পড়ে যাওয়া মহিলাকে উদ্ধার করেন।
মহিলার আঘাত গুরুতর মনে হওয়ায় খবর দেওয়া হয় শ্যামবাজার ট্রাফিক গার্ডের ওসি প্রবীর ভট্টাচার্যকে। খবর পেয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ নির্দেশ দেন আহতাকে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যেতে এবং চিকিৎসা শুরুর ব্যবস্থা করতে। সেই অনুযায়ী সার্জেন্ট সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আহতাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। চিকিৎসকেরা প্রাথমিক পরীক্ষা করে জানান, মহিলার একটি মাইনর অপারেশনের প্রয়োজন।
এদিকে আহত মহিলা নিজের নাম জানান শিবানী দত্ত, ঠিকানা ২এ কাশিমিত্র ঘাট রোড। তিনি আত্মীয় হিসেবে একটি ফোন নম্বর দেন—বেবি দাস নামে এক আত্মীয়ের। পুলিশ সেই নম্বরে ফোন করতেই বেবি দাস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর পক্ষে হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব নয়। বরং পুলিশের কাছেই দায়িত্ব দিয়ে দেন আহতাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য।
এই অবস্থায় পুলিশ দ্বিধায় পড়লেও ওসি প্রবীর ভট্টাচার্য স্পষ্ট নির্দেশ দেন—‘‘মানুষের জীবনই আগে, বাড়ির লোক থাকুক বা না থাকুক চিকিৎসা চলবে।’’ তাঁর নির্দেশে চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। রাত প্রায় ৯টা নাগাদ অপারেশন শেষ হয় এবং শিবানী দেবীকে জেনারেল বেডে ভর্তি করা হয়।
শ্যামবাজার ফাইভ পয়েন্টের এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের মানবিক উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে এলাকাবাসীর কাছে। প্রায়শই কঠোরতা ও জরিমানার অভিযোগ শোনা গেলেও, এদিনের ঘটনায় পুলিশের অপর এক রূপ ধরা পড়ল—যেখানে কর্তব্য ও মানবিকতা মিলেমিশে একাকার।
শেষ পর্যন্ত শিবানী দেবীর জীবন রক্ষা পায় পুলিশের তৎপরতায়। আর সাধারণ মানুষের মুখে ঘুরে বেড়ায় সেই প্রাচীন উক্তি—“কি বিচিত্র এই দেশ, হায়রে সেলুকাস।”




