কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ৩১অগস্ট :
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদর দফতরে হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে সিআইটি রোডে অবস্থিত কংগ্রেস ভবনে ঘটে যাওয়া এই অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তিনজনের মধ্যে অন্যতম হল সান্তোষ রাজওয়া। পুলিশের অভিযোগ, রাজওয়া ও তার সহযোগীরা কংগ্রেসের পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে, রাহুল গান্ধীর ছবি কালো কালি দিয়ে বিকৃত করে এবং উপস্থিত কংগ্রেস কর্মীদের ভয় দেখায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু তাই নয়, অভিযুক্তরা অফিসের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে এবং ভবনে ঢোকার চেষ্টা চালায়। ঘটনায় রাজওয়া ছাড়াও আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে স্থানীয় বিজেপি নেতা রাকেশ সিং-এর। অভিযোগ, তিনিই গোটা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে তিনি পলাতক, তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রাহুল গান্ধীর ‘ভোটার অধিকারের যাত্রা’-য় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতেই বিজেপি কর্মীরা এই হামলা চালায়। ঘটনার পরই কংগ্রেস পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে।
রাকেশ সিং পরে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে হামলার দায় স্বীকার করেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমি জনসমক্ষে রাহুল গান্ধীর ছবি কালো করেছি এবং লাইভ স্ট্রিমিং করেছি। এতে আমার কোনও লজ্জা নেই। মমতার পুলিশ আমাকে কিছু করতে পারবে না।”
এই ঘটনার পর কংগ্রেসও পাল্টা আন্দোলনে নামে। রাজ্যের কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নেতৃত্ব দেন বিজেপির রাজ্য দফতর ঘিরে বিক্ষোভে। মুরলিধর সেন লেনের কাছে বিজেপি অফিসের সামনে কংগ্রেস কর্মীরা অবস্থান নিলে পুলিশ দ্রুত ব্যারিকেড বসিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এড়ায়।
এছাড়া শনিবার দুপুরে হাজরা মোড়ে আধঘণ্টা ধরে পথ অবরোধ করে কংগ্রেস কর্মীরা। তাঁরা স্লোগান দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনীতির অঙ্গনেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভ যথার্থ হলেও আমরা কোনওভাবেই অন্য দলের দফতরে হামলার পক্ষপাতী নই। আমাদের রাজ্য সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন।”
পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত রাকেশ সিং ও অন্যদের ধরতে তল্লাশি অভিযান চলছে। শিগগিরই তাঁদের গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে লালবাজার।




