spot_img
25 C
Kolkata
Sunday, December 7, 2025
spot_img

SCO সম্মেলনে ভারত-চীন-রাশিয়ার বার্তা: বহুমেরু বিশ্ব গঠনের ডাক !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়াদিল্লি , ৩১অগস্ট :

তিয়ানজিনে এসসিও শীর্ষ সম্মেলন: মোদি–শি–পুতিন ত্রয়ীর দিকে দৃষ্টি, বহুমেরু বিশ্বের ইঙ্গিত !


চীনের তিয়ানজিনে শুরু হয়েছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলন। রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠকে মুখোমুখি হচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে এই সাক্ষাৎকে ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ, কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কনীতির ছায়াতেই বসছে এবারের বৈঠক।

ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই ভারতীয় আমদানির উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। রুশ তেল কিনলে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে দিল্লিকে। অপরদিকে, চীনকেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে— বিরল ধাতু (rare-earth) রপ্তানি করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপাতে পারে। রাশিয়াও এখনও পশ্চিমা দেশগুলির কড়া নিষেধাজ্ঞার মুখে।

এই পরিস্থিতিতেই মোদি–শি–পুতিন ত্রয়ী একসাথে মঞ্চে আসায় বার্তাটা স্পষ্ট— পশ্চিমা প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে এশিয়ার তিন মহাশক্তি।

সম্মেলনে আসার আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, “চীন বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য একটি স্থিতিশীল শক্তি। রাশিয়া ও চীন একসাথে ন্যায়সঙ্গত, বহুমেরু আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বর্তমানে SCO-র পূর্ণ সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে রয়েছে— ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান। এই সংগঠন প্রায় ৪০ শতাংশ বিশ্ব জনসংখ্যাকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সম্পদের ওপর প্রভাব রাখে।

এছাড়া পর্যবেক্ষক ও সহযোগী দেশ হিসেবে উপস্থিত থাকছে মিশর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্র। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসও যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১৭ সালে পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার পর থেকে ভারত এই মঞ্চকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির কাছে এই সম্মেলন কেবল কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি বেইজিংয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এবং ওয়াং ই-র বৈঠকে পর্যটন, বাণিজ্য ও সংযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। উভয় দেশই বহুপাক্ষিকতা ও নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছে।

এবারের বৈঠক মোদি–শি সাক্ষাৎকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করছে, কারণ গালওয়ান সংঘর্ষের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন করে পুনর্গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে মোদি–পুতিন বৈঠকে শক্তি সহযোগিতার প্রসঙ্গ উঠবে বলেই ধারণা, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের রুশ তেল আমদানিকে কঠোর সমালোচনা করে চলেছে।

যদিও আমেরিকা এই সম্মেলনের অংশ নয়, তার শুল্কনীতি ও অর্থনৈতিক চাপ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্লেষক ইউন সান মন্তব্য করেছেন— “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টেবিলে না থাকলেও আলোচনায় সব সময় উপস্থিত।” একইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞ সুশান্ত সিং বলেন, “এই সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় আমেরিকার নীতি ও শুল্ক ব্যবস্থা।”

এবারের তিয়ানজিন শীর্ষ সম্মেলন SCO ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমাবেশ হতে চলেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন, পশ্চিমা আধিপত্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে SCO এক নতুন দিক দেখাবে। আর মোদি–শি–পুতিন ত্রয়ীর উপস্থিতি বহুমেরু বিশ্বের দিকে অগ্রগতির বার্তা বহন করছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks