spot_img
25 C
Kolkata
Sunday, December 7, 2025
spot_img

‘টেন্টেড’ তালিকা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা, পূর্ব মেদিনীপুরকে হাতিয়ার করে তোপ দাগছে তৃণমূল–বিজেপি

কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা , ১ সেপ্টেম্বর  :


শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ফের অগ্নিগর্ভ রাজ্য রাজনীতি। স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) সম্প্রতি নবম–দশম ও একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত দাগি বা ‘টেন্টেড’ প্রার্থীদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতেই, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

বিজেপি সরাসরি অভিযোগ তুলেছে, এই তালিকাই প্রমাণ করছে রাজ্যের শাসকদল কতখানি দুর্নীতিগ্রস্ত। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, “সরকার নিজেই স্বীকার করে নিল যে চুরি হয়েছে। বহু তৃণমূল নেতার নাম এই নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে।” একই সুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “যারা পিছনের দরজা দিয়ে চাকরি পেয়েছে, তাদের ৯০ শতাংশ টাকা দিয়ে, আর ১০ শতাংশ শাসকদলের সুপারিশে চাকরি হয়েছে।”

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, এই তালিকাই প্রমাণ করছে যে নিয়োগ দুর্নীতির সময় শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পূর্ব মেদিনীপুরে প্রভাব খাটাতেন। রবিবার পর্যন্ত প্রকাশিত ১,৮০৬ জন দাগির মধ্যে প্রায় ২০০ জনই পূর্ব মেদিনীপুরের—এই তথ্য সামনে এনে শাসকদল বলছে, শুভেন্দু নিজে ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা এই দুর্নীতির বাইরে নন।

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নাম না করেই বিজেপিকে প্রশ্ন করেছেন, “পূর্ব মেদিনীপুরে কী হয়েছিল? বিজেপির নেতারা তার ব্যাখ্যা দিন।”

এই তালিকায় পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক ও মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষের পুত্রবধূর নামও উঠে এসেছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি সোমবারের বিধানসভা অধিবেশনে হট্টগোল তুলতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। সাংবাদিকদের প্রশ্নে নির্মল ঘোষ অবশ্য বলেছেন, “আমি কিছু জানি না। আইন আইনের পথেই চলবে।”

এই ইস্যুতে শুধু বিজেপি নয়, সিপিএম এবং কংগ্রেসও একসঙ্গে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে।

  • সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “দাগিদের তালিকায় অধিকাংশই তৃণমূল। কার কত টাকা লেগেছে, সেটা নির্ভর করেছে কারা কোন নেতার ঘনিষ্ঠ।”

  • কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর দাবি, “তৃণমূলের হাঁড়ি হাটে ফেটে গিয়েছে। সরকারকে এখনই দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী এদিন বিজেপিকে পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন, “যে বিজেপি শাসিত ত্রিপুরা ও মধ্যপ্রদেশে নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে, তাদের মুখে নৈতিকতার কথা মানায় না।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে এই বিষয় নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক হওয়াই স্বাভাবিক। নির্মল ঘোষের পরিবারের নাম উঠে আসায় শাসকদলের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীরা এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে আন্দোলনকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিচ্ছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks