কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা , ১ সেপ্টেম্বর :
হার না মানা জেদ, এক বছরের আক্ষেপ আর হাজার মানুষের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে ফের নতুন কীর্তি গড়তে চলেছে নদিয়ার রানাঘাটের কামালপুর গ্রামের অভিযান সঙ্ঘ। গত বছর ১১২ ফুট উঁচু দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেও প্রশাসনিক অনুমতি না মেলায় সেই প্রতিমা পূজিত হয়নি। ভেস্তে গিয়েছিল দর্শনার্থীদের স্বপ্নও। তবে এবারের দুর্গাপুজোয় সেই স্বপ্নই আবার নতুন করে বুনছে এই মণ্ডপ।
২০২৪ সালে রানাঘাটের অভিযান সঙ্ঘ তৈরি করেছিল ১১২ ফুটের দুর্গা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিমা হিসেবে তা রেকর্ড গড়ার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তার অজুহাতে মিলল না প্রশাসনিক ছাড়পত্র। প্রতিমা দেখা তো দূরের কথা, দুর্গাপুজোও অনুষ্ঠিত হয়নি। আক্ষেপে ভরেছিল হাজার হাজার মানুষের মন। সেই ক্ষত থেকেই জন্ম নেয় নতুন প্রতিজ্ঞা—যা গত বছর হয়নি, এ বছর তা অবশ্যই হবে।
এবারও প্রতিমার উচ্চতা থাকছে ১১২ ফুট। তবে, গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কাঠামোয় এসেছে বড়সড় পরিবর্তন। বাঁশের বদলে তৈরি হয়েছে সিমেন্ট–কংক্রিটের বেস। নিরাপত্তায় দেওয়া হয়েছে বাড়তি জোর। প্রতিমা সাজবে ঐতিহ্যবাহী ডাকের সাজে। উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় ২০টি গ্রাম।
এই মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হচ্ছে রানাঘাট–২ ব্লকের কামালপুর গ্রামে। রানাঘাট শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। প্রতিমা দেখার জন্য ইতিমধ্যেই শহর ও জেলার নানা প্রান্ত থেকে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অভিযান সঙ্ঘের অন্যতম উদ্যোক্তা সুজয় বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই প্রতিমা তৈরি ও পূজার সম্পূর্ণ আয়োজনের খরচ ছুঁতে চলেছে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। তাঁর কথায়,
“একসময় ধানতলা কিংবা কামালপুর নাম শুনলেই দুষ্কৃতীদের কথা মনে হত মানুষের। এখন এই গ্রামকে চিনবে গোটা ভারতবর্ষ বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্গার গ্রাম হিসেবে। পর্যটন বাড়বে, অর্থনৈতিক দিক থেকেও উপকৃত হবে এলাকা।”
২০১৫ সালে কলকাতার দেশপ্রিয় পার্ক ৮৮ ফুট প্রতিমা বানিয়ে রেকর্ড গড়েছিল। তবে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেয়ে প্রশাসন মণ্ডপ বন্ধ করে দেয়।
পরে অসমে তৈরি হয়েছিল ১০১ ফুট উঁচু দুর্গা, যা গিনেস বুকে জায়গা পায়।
এবার নদিয়ার কামালপুরের লক্ষ্য সেই রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু দুর্গা হিসেবে ইতিহাস রচনা করা।
গত বছরের হতাশা কাটিয়ে ফের যে বিশাল দুর্গা গড়ে উঠছে, তা দেখতে ইতিমধ্যেই মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। উদ্যোক্তাদের আশা, এই প্রতিমাই কামালপুরকে শুধু বাংলাতেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও অন্য পরিচিতি দেবে।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই নদিয়ার এই গ্রাম শুধু পুজোর আবেগেই নয়, রেকর্ড গড়ার অপেক্ষাতেও তাকিয়ে।




