কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা , ১সেপ্টেম্বর :
উৎসবের মরশুমের আগে যাত্রী পরিষেবায় আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারতীয় রেল। বয়স্ক, শারীরিকভাবে অক্ষম ও অসুস্থ যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে চালু করা হল ই-হুইলচেয়ার পরিষেবা। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে এই সুবিধা, তবে যাত্রীদের একটি ন্যূনতম ৫০০ টাকা জামানত রাখতে হবে এবং সরকারি স্বীকৃত পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
যাত্রীরা চাইলে IRCTC-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আগেই অনলাইনে বুকিং করতে পারবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু বড় স্টেশনেও সরাসরি বুকিংয়ের সুবিধা থাকছে। পরিষেবাটি প্রথমে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে দেওয়া হবে।
বর্তমানে এই পরিষেবা পাওয়া যাবে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে—
আহমেদাবাদ, আগ্রা ক্যান্টনমেন্ট, বরোদা, বারাণসী, ভুসাওয়াল, বিজয়ওয়াড়া, কানপুর সেন্ট্রাল, মুম্বই সিএসটি, মুম্বই সেন্ট্রাল, হাওড়া, ইন্দোর, ঝাঁসি, জয়পুর, লখনউ, নিউ দিল্লি, নাগপুর, পাঠানকোট ক্যান্টনমেন্ট, পুনে, বেঙ্গালুরু সিটি, সেকেন্দ্রাবাদ, শ্রীমাতা বৈষ্ণোদেবী কাটরা সহ আরও বহু জায়গায়। ধীরে ধীরে দেশের সব প্রধান স্টেশনেই এই সুবিধা চালু করা হবে বলে রেল সূত্রে জানা গেছে।
উৎসবের মরশুমে ভিড়ে ঠাসা ট্রেন ও স্টেশনে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন প্রবীণ যাত্রী, অসুস্থ ব্যক্তি ও শারীরিকভাবে অক্ষমরা। নতুন এই পদক্ষেপে তাঁদের যাতায়াত হবে অনেক বেশি আরামদায়ক ও নিরাপদ। শুধু তাই নয়, “সুগম্য ভারত অভিযান”-এর অংশ হিসেবে রেল ইতিমধ্যেই লিফট ও এস্কেলেটর বসানোর কাজ শুরু করেছে। ফলে প্ল্যাটফর্মে ওঠানামা বা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের ঝক্কিও অনেকটা কমবে।
রেল কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য হল যাত্রীদের জন্য ভ্রমণকে আরও নিরাপদ ও সুলভ করে তোলা। বিশেষত প্রবীণ ও অক্ষম যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারেন, সেটাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।”
এক সময়ে স্টেশনে বয়স্ক মা-বাবাকে নামিয়ে হুইলচেয়ার বা সহায়তার খোঁজে নাজেহাল হতে হত পরিবারের সদস্যদের। এখন মাত্র কয়েক ক্লিকেই মিলবে ই-হুইলচেয়ার। এই উদ্যোগে যেমন মানবিকতার পরিচয় রয়েছে, তেমনই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র লক্ষ্যও পূরণ করছে ভারতীয় রেল।




