কলকাতা টাইমস নিউজ : নিজস্ব প্রতিনিধি : মুম্বই , ১সেপ্টেম্বর :
অলিম্পিক আয়োজনের দৌড়ে ভারত, ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের বিডও চলছে সমান্তরালে
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতের বৃহত্তম আসর ‘অলিম্পিক গেমস’ এবার ভারতের দরজায় কড়া নাড়ছে। ২০৩৬ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক আয়োজনের জন্য ভারত প্রস্তুতি শুরু করেছে পূর্ণোদ্যমে। রবিবার মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানালেন, ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (IOA)-এর নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিড প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
“২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই জোরকদমে চলছে। সংসদ সদস্য এবং আইওএ সভাপতি পি টি ঊষাজির নেতৃত্বে ভারত বিড জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য, সঠিক সময়ে বিড সম্পূর্ণ করে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) কাছে পাঠানো। আমাদের প্রস্তুতি অত্যন্ত শক্তিশালী, আশা করি এই আসর ভারতে অনুষ্ঠিত হবে,”— বলেন গয়াল।
উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবরেই আইওএ আইওসি-র কাছে ‘লেটার অফ ইন্টেন্ট’ জমা দিয়েছে। গয়ালের মতে, অলিম্পিক আয়োজন শুধু ভারতের জন্য গর্বের বিষয়ই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বাড়তে থাকা মর্যাদা ও সক্ষমতারও প্রতিফলন ঘটাবে।
অলিম্পিক আয়োজন ছাড়াও ভারত বড়সড় আরেকটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আনার দৌড়ে রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে আইওএ ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। শোনা যাচ্ছে, এই আসর আয়োজনের জন্য সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে আহমেদাবাদ শহর। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সব প্রস্তাব জমা হবে এবং নভেম্বরে কমনওয়েলথ স্পোর্টস কর্তৃপক্ষ আয়োজক শহরের নাম ঘোষণা করবে। পি টি ঊষা এই পদক্ষেপকে “ভারতীয় খেলাধুলার জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বিডের পাশাপাশি দেশীয় স্তরেও ক্রীড়া আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিতে উদ্যোগী হয়েছেন গয়াল। তিনি রবিবারই ঘোষণা করেন, উত্তর মুম্বইয়ে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে ৯৫ দিনের ‘এমপি স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল অব নর্থ মুম্বই’। তাঁর লক্ষ্য, অন্তত এক লক্ষ অংশগ্রহণকারী এই উৎসবে অংশ নেবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যদি একসঙ্গে অলিম্পিক ও কমনওয়েলথ— দুই আসর আয়োজনের দৌড়ে এগিয়ে যায়, তবে তা শুধু ক্রীড়া জগতেই নয়, দেশের পরিকাঠামো, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।
ভারতের ক্রীড়া মহল ও সরকারের আশাবাদ, এই দ্বৈত উদ্যোগ দেশের প্রস্তুতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে এবং বিশ্বমানের ক্রীড়া আয়োজনের জন্য ভারতের যোগ্যতাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।




