কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : নয়াদিল্লি, ২ সেপ্টেম্বর :
বহু প্রতীক্ষিত ডিএ মামলার শুনানি আবারও পিছিয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও, বিস্তারিত শুনানির সময় না থাকায় তা স্থগিত করা হয়েছে। ঠিক হয়েছে, আগামী সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হবে।
বিগত কয়েক বছর ধরে ডিএ মামলা রাজ্য সরকারি কর্মীদের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত হারে মহার্ঘভাতা (ডিএ) চেয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের একাধিক সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। প্রথমে মামলা ঘুরেছে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (SAT) এবং কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট কর্মীদের পক্ষে রায় দিলেও, রাজ্য সরকার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানায় সুপ্রিম কোর্টে।
২০২২ সালেই এই মামলার প্রথম শুনানি হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। তারপর থেকে দফায় দফায় শুনানি পিছিয়েছে। গত বছরের অগস্টে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছিল, প্রয়োজনে প্রতিদিন শুনানি হবে। টানা তিন দিন শুনানিও হয়, কিন্তু তার পর আবার একাধিক কারণে তারিখ পিছিয়েছে।
-
১২ অগস্ট নির্ধারিত শুনানি হয়নি, এক আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে।
-
২৬ অগস্ট ফের পিছোল শুনানি।
-
১ সেপ্টেম্বরও একই চিত্র।
এবারও সোমবার সেই ধারা বজায় থাকল। ফলে সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আরও বাড়ল।
গত ১৬ মে শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল, বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে। ছ’সপ্তাহের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিল আদালত। সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে গত ২৭ জুন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকার সেই টাকা মেটায়নি। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, স্বল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান সম্ভব নয়।
ডিএ মামলার শুনানি বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় হতাশ কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বের বক্তব্য, “আমরা আশা করেছিলাম, এবার কোনও স্পষ্ট নির্দেশ আসবে। কিন্তু প্রতি বারই শুধু তারিখ বদলাচ্ছে। এতে কর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে।”
এখন সমস্ত চোখ আগামী সোমবারের দিকে। কর্মীরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্ট এবার হয়তো স্পষ্ট নির্দেশ দিতে বাধ্য হবে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের তরফে চাপের সুরও শোনা যাচ্ছে—অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণ দেখিয়ে একবারে সব মেটানো সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, ডিএ মামলার জটিলতা এবং ধারাবাহিক বিলম্ব সরকারি কর্মীদের জীবনে আর্থিক চাপ ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। আগামী সোমবারের শুনানি তাই এখন ‘নজরকাড়া তারিখ’ হয়ে উঠেছে।




