কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা , ২ সেপ্টেম্বর :
বিতর্কের আবহে বাতিল হয়ে গেল গীতিকার-চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারের কলকাতা সফর। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অ্যাকাডেমির আয়োজিত সাহিত্য অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল বলিউডের প্রখ্যাত এই ব্যক্তিত্বের। কিন্তু একাধিক ইসলামী সংগঠনের আপত্তি ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারির জেরে শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় উর্দু অ্যাকাডেমি।
মূলত ‘উর্দু ইন হিন্দি সিনেমা’ শিরোনামে আয়োজিত এই সাহিত্য উৎসবে উর্দু ভাষার বলিউডে প্রয়োগ এবং তার সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি কবিতা পাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছিল। সব আয়োজনের কেন্দ্রে ছিলেন জাভেদ আখতার। তাঁর উপস্থিতির কথা জানাজানি হতেই রাজ্যের কয়েকটি কট্টর ইসলামী সংগঠন সরব হয়ে ওঠে।
জমিয়েত উলেমা-ই-হিন্দ। সংগঠনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, ইশ্বর বা ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এমন কাউকে মঞ্চে ডাকা যাবে না। তারা হুমকি দেয়, যদি জাভেদ আখতারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, তবে রাজ্য জুড়ে আন্দোলন হবে। এমনকি ২০০৭ সালে তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে যে ধরনের হিংসাত্মক প্রতিবাদ হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিতও দেওয়া হয়।
যদিও পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অ্যাকাডেমির দাবি, অনিবার্য কারণবশত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। সরাসরি হুমকির কারণে নয়। কিন্তু বিশিষ্টজনদের একাংশ এই সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।
কলকাতার গবেষক সাবির আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত। কেউ ধর্মবিশ্বাসী বা নাস্তিক হতেই পারেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কেউ কিছু বলেছেন বলেই তাঁর অনুষ্ঠান বাতিল করা উচিত নয়। আমরা ক্রমশ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছি। ভিন্ন মতও শোনার মানসিকতা রাখতে হবে।”
২০০৭ সালে তসলিমা নাসরিনকে কেন্দ্র করে কলকাতায় যে হিংসাত্মক বিক্ষোভ হয়েছিল, সেই ঘটনার স্মৃতি ফের উসকে দিয়েছে এ দিনের সিদ্ধান্ত। প্রশ্ন উঠছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জায়গা কি ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে বাংলায়?
রাজ্যের সংস্কৃতি জগৎ থেকে সমাজবিজ্ঞানী— সকলেরই অভিমত, ভিন্ন মতের প্রতি সহনশীলতা না থাকলে সমাজ আরও বিভক্ত হবে। জাভেদ আখতারের অনুষ্ঠান বাতিলের ঘটনাকে তাই কেবল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল বলেই নয়, বৃহত্তর পরিসরে এক চিন্তার কারণ হিসেবেই দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।




