কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা , ২ সেপ্টেম্বর :
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। কিন্তু এবার নিজেদের অধিকার আদায়ে আরও আক্রমণাত্মক পথে হাঁটতে চলেছেন ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষকরা। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাক দিলেন তাঁরা।
সোমবার এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক করেন ‘যোগ্য’দের একাংশ। উপস্থিত ছিলেন চাকরিহারা আন্দোলনের অন্যতম মুখ সুমন বিশ্বাসও। তিনি জানান, বৈঠকেই কমিশনের কাছে যোগ্য চাকরিহারাদের পৃথক তালিকা প্রকাশের দাবি তোলা হয়েছে। কমিশনকে দেওয়া হয়েছে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম। সুমনের হুঁশিয়ারি—“তালিকা প্রকাশ না হলে অনশনে বসতে বাধ্য হব।”
এক ভিডিও বার্তায় সুমন বিশ্বাস ঘোষণা করেছেন—“৪ তারিখ সবাইকে বিধানসভা ঘেরাওয়ে আসতে হবে। যারা চাকরি হারিয়েছেন, তারা তো আসবেনই। যারা চাকরিতে আছেন, তারাও আসুন। আমাদের চাকরি ফেরানোর দাবিতে একসাথে লড়াই করতে হবে।”
তাঁর আরও দাবি, রাজ্য বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হোক। এবং ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের পৃথক তালিকা প্রকাশ করুক এসএসসি।
সুমন বিশ্বাস আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁরা আর নতুন করে পরীক্ষায় বসবেন না। অভিযোগ করে বলেন—“চাকরি চুরি করেছে বোর্ড, রাজ্য সরকার, শাসক দল, অযোগ্যরা। তাই আবার পরীক্ষায় বসার প্রশ্নই ওঠে না। সর্বদল বৈঠক করে আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে। এই কারণেই বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাক দেওয়া হচ্ছে।”
আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠা সুমনকে ঘিরে নানা বিতর্কও চলছে। অভিযোগ, এসএসসি ভবন অভিযানের ডাক দেওয়ার পরই পুলিশের নজরদারিতে পড়েছেন তিনি। তাঁর ভাই দাবি করেন, ব্যান্ডেলে তাঁদের এলাকায় পুলিশ হানা দিয়েছে। সোমবার করুণাময়ী মেট্রো স্টেশনেও সুমনকে আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। সেখানেই দীর্ঘক্ষণ বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ, তাঁকে মারধরও করা হয়েছে।
এদিকে আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য নতুন নিয়োগ পরীক্ষার দিন ঘোষণা করেছে এসএসসি। আবেদন প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। কিন্তু ‘দাগি’দের তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁদের অনেকে আবার পরীক্ষায় বসার ফর্ম পূরণ করেছিলেন। ফলে প্রায় ১,৪০০ প্রার্থীর অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করা হয়েছে। দু’টি স্তরে আবেদন জমা দেওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মোট ২,১৬০টি আবেদনপত্র খারিজ করা হয়েছে।
চাকরি বাতিলের ধাক্কায় ক্ষুব্ধ ‘যোগ্য’রা এখন আরও সংগঠিত হয়ে পথে নামছেন। অনশন থেকে বিধানসভা ঘেরাও—সবরকম কর্মসূচি নিতে তাঁরা প্রস্তুত। আন্দোলনের এই নতুন অধ্যায় রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনকেও সরগরম করে তুলেছে।




