কলকাতা টাইমস নিউজ : কলকাতা , ২ সেপ্টেম্বর :
বিস্তারিত দেবজিৎ গাঙ্গুলির কলমে :
সেনার দাবি: দু’দিনের অনুমতি, তৃণমূলের অভিযোগ: বিজেপির চক্রান্ত
ধর্মতলার মেয়ো রোডে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে তৃণমূল কংগ্রেসের তৈরি প্রতিবাদ মঞ্চ ভেঙে দিল সেনা। সোমবার দুপুরে হঠাৎ সেনা কর্মীরা এসে মঞ্চ খোলার কাজ শুরু করেন। এই খবর পৌঁছতেই সরাসরি ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাঙা মঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আমি সেনাকে দোষারোপ করছি না, বিজেপিকে দোষারোপ করছি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কথায় এটা করা হয়েছে।”
বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হেনস্থা ও বাংলা ভাষার অপমানের ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতি শনি ও রবিবার এই মঞ্চ থেকে সভার আয়োজন করছিল। ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সভা থেকেই এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা যায়, ৩১ অগস্ট পর্যন্ত এই মঞ্চের অনুমতি ছিল। কিন্তু সোমবার সেনার একটি দল গিয়ে মঞ্চ সরানোর কাজ শুরু করে।
ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ময়দানে দু’দিনের বেশি কোনও অনুষ্ঠান করতে হলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমতি লাগে। তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র দু’দিনের অনুমতি নিয়েছিল, অথচ প্রায় এক মাস ধরে মঞ্চটি বাঁধা ছিল। একাধিকবার নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও মঞ্চ সরানো হয়নি। তাই শেষ পর্যন্ত কলকাতা পুলিশকে জানিয়েই সেনা কর্মীরা কাঠামোটি খোলার কাজ শুরু করেন।
তবে সেনার এই যুক্তি মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, “আমাদের যদি বলা হত, আমরা নিজেরাই মঞ্চ সরিয়ে দিতাম। মঞ্চ ভাঙা সেনার কাজ নয়, পুলিশকে বললেই হত।” বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করে মমতা বলেন, “এটা আর্মির কাজ নয়, পিছনে লুকিয়ে আছে বিজেপি। মোদীবাবুর অনুমতি নিয়ে আমাকে কর্মসূচি করতে হবে না। আমি মানুষের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি করব।”
সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এ-ও বলেন, “আমার সেনার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। আমরা সেনা নিয়ে গর্বিত। কিন্তু বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে সেনাকে ব্যবহার করছে। এভাবেই দেশের সব এজেন্সিকে অপব্যবহার করা হচ্ছে।”
ঘটনার পরেই মমতা ঘোষণা করেন, গান্ধী মূর্তির মঞ্চ সরিয়ে প্রতিবাদের কর্মসূচি অন্যত্র হবে। তাঁর কথায়, “ধর্না আমাদের চলবে, আটকানোর ক্ষমতা বিজেপির নেই। কাল থেকে রানি রাসমণি রোডে কর্মসূচি শুরু হবে। এখন প্রতিদিন হবে, প্রতিটি ব্লক-ওয়ার্ড-পঞ্চায়েতে প্রতিবাদ হবে।”
মঞ্চ ভাঙাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই মাসের পর মাস মঞ্চ দখল করে রেখেছিল তৃণমূল। পাল্টা শাসকদলের দাবি, বাংলাভাষী মানুষের অধিকারের পক্ষে আন্দোলনকে স্তব্ধ করার জন্যই বিজেপির নির্দেশে এই পদক্ষেপ।
একদিকে সেনার নিয়মকানুন ও আইনি বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ— বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে সেনাকে ব্যবহার করছে। ফলে মেয়ো রোডের মঞ্চ ভাঙাকে কেন্দ্র করে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের রং গাঢ় হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, রানি রাসমণি রোডে নতুন কর্মসূচি থেকে মমতা কী বার্তা দেন এবং এই ঘটনায় রাজ্য-রাজনীতির উত্তাপ কতটা বাড়ে।




