কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : গুজরাট ,২ সেপ্টেম্বর :
গুজরাটের শিল্পনগরী সুরাট ফের কেঁপে উঠল ভয়াবহ বিস্ফোরণে। সোমবার দুপুরে জেলার জোলভা গ্রামের একটি টেক্সটাইল প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় রাসায়নিকের ড্রাম বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে দুই শ্রমিকের। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন অন্তত ২০ জন, যাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের সুরাটের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জোলভার সন্তোষ টেক্সটাইল কারখানাতে হঠাৎ করেই এক রাসায়নিকের ড্রাম বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটে। আতঙ্কে শ্রমিকরা এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের অন্তত ১০টি ইঞ্জিন এবং ঘণ্টাখানেকের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
মহকুমাশাসক ভি. কে. পিপালিয়া জানিয়েছেন, কী কারণে ড্রামে বিস্ফোরণ ঘটল তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিক অনুমান, রাসায়নিকের ভুল মিশ্রণ অথবা অতি গরমের কারণে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তদন্ত চলছে।
এই ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক মাসে গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের শিল্পাঞ্চলে একাধিকবার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কয়েক মাস আগেই গুজরাটের ডিসা অঞ্চলের একটি গুদামে আতশবাজি ও বিস্ফোরক মজুত থাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। সেই ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ আগে আনন্দ জেলার খাম্বাতে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানার ট্যাঙ্কে বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে প্রাণ হারান দু’জন শ্রমিক। তারও আগে মহারাষ্ট্রের তারাপুর-বৈসার শিল্পাঞ্চলে একটি ওষুধ কারখানায় নাইট্রোজেন গ্যাস লিক হয়ে মৃত্যু হয়েছিল চার কর্মীর।
শিল্পাঞ্চলের এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলি প্রশ্ন তুলছে, কেন বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে এবং প্রশাসন শিল্প কারখানাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে না কেন। তাঁরা দাবি তুলেছেন, প্রতিটি কারখানায় আন্তর্জাতিক মানের সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হোক, নইলে আরও বড় বিপর্যয় আসন্ন।
ঘটনার পর নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ফের একবার মনে করিয়ে দিল, শিল্পে উৎপাদনের পাশাপাশি নিরাপত্তার প্রশ্নও সমান জরুরি।




