কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা , ৩ সেপ্টেম্বর :
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় মঙ্গলবার ফের জামিনের আবেদন খারিজ পেলেন। আদালতে তাঁর আইনজীবীর সওয়াল ছিল, অভিযুক্তকে একবারও জেরা করা হয়নি। ফলে এই মামলা আসলে ‘ষড়যন্ত্রের ফল’। কিন্তু এই যুক্তি আদালতে গ্রহণযোগ্য হয়নি। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর।
২০২২ সালের ৯ জুন কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলা রুজু হয়। এর পরই ২৪ জুন ইডি তাঁকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, গ্রেফতারের পর থেকে কেবল ২০২২ সালের ১৫ অক্টোবর একবার তাঁকে জেরা করা হয়েছিল। তারপর আর কোনওদিন নয়। অথচ একই মামলার ১২ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১১ জন ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন।
পার্থর আইনজীবী মিলন মুখোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁর মক্কেলকে প্রভাবশালী ব্যক্তি বলে চিহ্নিত করে ইচ্ছে করেই জামিন দেওয়া হচ্ছে না। অথচ সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, আইনের চোখে সবাই সমান। তাই অন্যরা জামিন পেলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও সেই সুযোগ দেওয়া উচিত।
তাঁর অভিযোগ, ইডির মামলা আসলে একটিমাত্র নথিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। তদন্তের অগ্রগতি নেই। “কাউকে গ্রেফতার করলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়। না করে হেফাজতে রাখা মানে অকারণে শাস্তি দেওয়া,” ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান আইনজীবী।
একই মামলায় অন্যরা মুক্ত, কিন্তু কেন বারবার আটকে যাচ্ছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়?
রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখনও কারাগারে। অথচ নিয়োগ দুর্নীতি মামলার বাকি অভিযুক্তরা অধিকাংশই জামিনে মুক্ত। আদালতের চোখে তাহলে আলাদা করে কেন বারবার তাঁর জামিন আটকে যাচ্ছে?
আইনজীবীদের মতে, ইডি মামলায় তাঁকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ফলে তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারেন, এই আশঙ্কাই জামিনের অন্তরায়। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায় বলছে – ‘আইনের চোখে সবাই সমান’। তাই প্রশ্ন উঠছে, এক অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হলে অন্যকে কেন দেওয়া হবে না?
২০২২ সালের জুন মাসে শুরু হওয়া এই মামলায় আজও তদন্ত শেষ হয়নি। একবার মাত্র তাঁকে জেরা করা হয়েছে, বাকিটা সময় তিনি কারাগারেই কাটিয়েছেন। তবু জামিন মেলেনি। এই দীর্ঘ কারাবাসের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে নতুন কোনও মোড় ঘুরবে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের চোখে সবাই সমান। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা কি সত্যিই তাই ? শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সেই প্রশ্নটিই সামনে আনছেন।
একই মামলার অধিকাংশ অভিযুক্ত জামিন পেলেও তিনি আজও জেলের অন্ধকার কক্ষে বন্দি। গ্রেফতারের পর মাত্র একদিন তাঁকে জেরা করা হয়েছে। তারপর আর কোনও তদন্ত এগোয়নি। তবু তাঁর মুক্তি নেই।
এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে – এটা কি আইনসঙ্গত, নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? যদি মামলা এগোয়নি, যদি অন্যরা মুক্ত হন, তবে একজন মানুষকে বছর ধরে কারাগারে রেখে দেওয়ার মানে কী?
অবশ্যই দুর্নীতির মামলায় বিচার হওয়া দরকার। তবে বিচার মানেই ন্যায়বিচার। শুধু কারাবন্দি করে রাখা কোনও সমাধান নয়। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত তাই শুধু একজন মানুষের ভাগ্য নয়, ন্যায়বিচারের প্রতি জনসাধারণের আস্থাকেও প্রভাবিত করবে।




