কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা , ৩ সেপ্টেম্বর :
ট্যাংরার ফ্ল্যাট থেকে গভীর রাতে গ্রেফতার হেভিওয়েট নেতা
বহুদিন ধরেই গা–ঢাকা দিয়ে থাকা বিজেপি নেতা রাকেশ সিং অবশেষে পুলিশের জালে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্যাংরার একটি ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। বিধান ভবনে ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। রাত প্রায় দু’টো নাগাদ এন্টালি থানার পুলিশ ও বিশেষ টিমের যৌথ অভিযানে ধরা পড়েন তিনি।
গত সপ্তাহে বিহারে রাহুল গান্ধীর সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রয়াত মাকে কটূক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। কলকাতায় রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে বিধান ভবনের সামনে বিক্ষোভ হয়। অভিযোগ, সেই বিক্ষোভই পরিণত হয় হামলায়। কংগ্রেসের সদর দফতরে ভাঙচুর, পোস্টার ছেঁড়া থেকে শুরু করে রাহুল গান্ধীর ছবিতে কালো কালি মাখানো হয়। ঘটনায় সরব হয় কংগ্রেস নেতৃত্ব।
হামলার পর এন্টালি থানায় রাকেশ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা হয়। তদন্তে নেমে তিন বিজেপি কর্মী এবং রাকেশের এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কিন্তু দলের হেভিওয়েট এই নেতার খোঁজ পাচ্ছিল না পুলিশ। বারবার ভিডিও বার্তা দিয়ে তিনি দাবি করছিলেন, তিনি আন্দোলন থেকে সরবেন না। এতে পুলিশের ধরা আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল।
ঠিক এর মধ্যেই সোমবার ধরা পড়েন রাকেশের ছেলে শিবম সিং। অভিযোগ, তিনি বাবার লুকিয়ে পড়তে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লাগাতার চাপ বাড়ানো হচ্ছিল—‘মূল অভিযুক্তকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না?’ বিজেপি-র তরফে আবার পাল্টা অভিযোগ ওঠে, প্রশাসন ইচ্ছে করেই রাকেশকে ধরছে না, যাতে তাঁকে সামনে রেখে আন্দোলন টানা যায়।
অবশেষে ট্যাংরার ওই ফ্ল্যাট থেকে গভীর রাতে ধরা পড়েন রাকেশ। তাঁকে গাড়িতে তোলার সময় তাঁর স্লোগান শোনা যায়—“মোদীজি জিন্দাবাদ।” পুলিশের হাতে ধরা পড়েও তিনি বলেন, “রাকেশ সিং ভয় পায় না।”
এই গ্রেফতার ঘিরে নতুন করে রাজনীতির পারদ চড়েছে। কংগ্রেস দাবি করছে, এটা প্রমাণ করে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে কংগ্রেস অফিসে হামলা চালিয়েছিল। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, রাহুল গান্ধীর বক্তব্য নিয়ে মানুষের ক্ষোভকে প্রশাসন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দমন করছে।
এখন রাকেশকে আদালতে তোলা হবে। তদন্তে উঠে আসতে পারে আরও নাম। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা—এই গ্রেফতার বিজেপি–কংগ্রেস সংঘাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।




