কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : নয়াদিল্লি , ৩ সেপ্টেম্বর :
তিন দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারতে পৌঁছলেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর। সফরকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক মহলে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-সিঙ্গাপুর কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে।
লরেন্স ওংয়ের সঙ্গে এসেছেন তাঁর স্ত্রী এবং সিঙ্গাপুর সরকারের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল, যেখানে আছেন একাধিক মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন আমলা। সফরের প্রথম দিনেই তাঁরা নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে পৌঁছন।
বুধবার সকালে ওং মহাত্মা গান্ধীর সমাধি রাজঘাটে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে তাঁর। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন তিনি। ওই দিনই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী।
সূত্রের খবর, এই সফরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, নাগরিক বিমান পরিবহণ, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং মহাকাশ গবেষণার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে উচ্চপর্যায়ের চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, “ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর এক গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদির সিঙ্গাপুর সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উন্নীত করে ‘সমগ্র কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ রূপ দেওয়া হয়েছিল। লরেন্স ওংয়ের এই সফর সেই সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে।”
২০২৫ সালে ভারত-সিঙ্গাপুর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পুনর্মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশের সুযোগ করে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রকের ভাষায়, “দুই দেশের মধ্যে সুদৃঢ় ও বহুমুখী সহযোগিতার পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময় করবেন দুই প্রধানমন্ত্রী।”
প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল তৃতীয় ভারত-সিঙ্গাপুর মন্ত্রীপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক (India-Singapore Ministerial Roundtable – ISMR)। সেখানে ছয়টি মূল খাতে— উন্নত ম্যানুফ্যাকচারিং, সংযোগ, ডিজিটালাইজেশন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন— অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। চিহ্নিত হয় বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ। ওংয়ের সফর সেই প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলিকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা কূটনৈতিক মহলের।
ভারত-সিঙ্গাপুর সম্পর্কের মূল ভিত্তি পারস্পরিক আস্থা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা। জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন থেকে শুরু করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা— দুই দেশই যৌথভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই লরেন্স ওংয়ের এই প্রথম ভারত সফরকে ঘিরে যে কূটনৈতিক গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে, তা নিছক প্রোটোকল নয়, বরং ভবিষ্যতের একটি বৃহত্তর কৌশলগত রূপরেখার প্রতীক।




