কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা , ৩ সেপ্টেম্বর :
কলকাতার ‘লাইফলাইন’ বলে খ্যাত মেট্রো রেলের অন্যতম আকর্ষণীয় উদ্যোগ ছিল রাতের বিশেষ পরিষেবা। এক বছর আগে যাত্রীদের সুবিধার্থে দমদম থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত শেষ মেট্রোর সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র এক বছরের মধ্যেই সেই পরিষেবা বন্ধ করে দিল কর্তৃপক্ষ। বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে আর চালু থাকবে না ব্লু লাইনের রাতের বিশেষ মেট্রো। ফলে ফের রাত ৯টা ৪৩ মিনিটেই শেষ মেট্রো ছাড়বে শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে, যা দমদম পৌঁছবে রাত ১০টা ২৯-এ। অন্যদিকে, দক্ষিণেশ্বর থেকে শেষ মেট্রো ছাড়বে রাত ৯টা ২৮ মিনিটে।
গত বছর যখন রাতের পরিষেবা চালু হয়েছিল, তখন শহরবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। অনেকে বলেছিলেন, ‘‘এত দিনে কলকাতা মেট্রো সাবালক হল।’’ কিন্তু শুরু থেকেই অভিযোগ ছিল, রাতের শেষ মেট্রোর সময়সীমা এবং বিশেষ ট্রেনের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টার ফাঁক থাকায় সাধারণ যাত্রীরা প্রকৃত অর্থে উপকৃত হচ্ছিলেন না। তবুও অনেকেই ভেবেছিলেন, ধীরে ধীরে পরিষেবাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রত্যাশিত যাত্রী পাওয়া যায়নি। বরং অতিরিক্ত খরচ এবং তুলনায় অতি সামান্য আয়ের ফলে বাড়তি লোকসান গুনতে হচ্ছিল।
এই লোকসান পোষাতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রাতের শেষ মেট্রোর টিকিটে অতিরিক্ত ১০ টাকা সারচার্জ বসানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও যাত্রীসংখ্যা তেমন বাড়েনি। ফলে অবশেষে পরিষেবাটি পুরোপুরি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা মেট্রো।
নিত্যযাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, রাত ৯টা ৪০ মিনিটের পর এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে রাত ১০টা ৪০ মিনিটের বিশেষ মেট্রো ধরার কোনো অর্থই ছিল না। তাদের মতে, মেট্রো কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিই যাত্রীদের কথা ভেবে থাকেন, তবে সময়সূচি আরও বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণ করা উচিত ছিল। এক নিত্যযাত্রীর কথায়, “কর্তৃপক্ষ যাত্রী না হওয়ার অভিযোগ তুলছেন। কিন্তু এর জন্য দায়ী তো তাঁদেরই অদক্ষ পরিকল্পনা।”
মেট্রোর রাত্রিকালীন পরিষেবা বাড়ানোর দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি পর্যন্ত প্রশ্ন তুলেছিলেন— দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো শহরে যখন রাত ১১টা পর্যন্ত মেট্রো চলে, তখন কলকাতার মতো ব্যস্ত শহরে কেন তা সম্ভব নয়? আদালত কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার পরামর্শও দিয়েছিল। কিন্তু পরিষেবা বাড়ানো তো দূরের কথা, উল্টে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দিল মেট্রো।
বর্তমানে কলকাতা মেট্রো প্রকল্পের বিভিন্ন সম্প্রসারণমূলক কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন লাইন চালু হলে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে রাতের মেট্রো পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আপাতত কোনো আশ্বাস মেলেনি।
কলকাতার ‘সাবালক’ মেট্রো আবার ‘নাবালক’ হয়ে যাওয়ায় হতাশ শহরবাসী। অফিস ফেরত বা রাতের সাংস্কৃতিক কর্মসূচি শেষে যারা মেট্রোর উপর ভরসা রাখতেন, তাঁদের এখন ফের অন্য যাতায়াত মাধ্যমের দিকে ঝুঁকতে হবে।




