কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা , ৩ সেপ্টেম্বর :
মঙ্গলবার সকালে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে সেনাবাহিনীর একটি ট্রাক আটকানোকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়েছে। কলকাতা পুলিশ দাবি করছে, গাড়িটি বিপজ্জনকভাবে চালানো হচ্ছিল। যে কোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এমনকি সেই সময় পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার গাড়ি সেনার ট্রাকটির ঠিক পিছনে ছিল। ফলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।
তবে সেনার পক্ষ থেকে বেপরোয়া চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। যদিও পুলিশ নিজেদের অবস্থানে অনড়। এদিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে ডিসি ট্রাফিক শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও স্পষ্ট জানান, “সাধারণ মানুষ হলেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হত। রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আমাদের নীতি জিরো টলারেন্স।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পরিষ্কার ‘নো রাইট টার্ন’ বোর্ড ছিল। কিন্তু সেনার ট্রাকটি সেই নিয়ম ভেঙেই ডান দিকে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাক চালক সিগন্যালও অমান্য করেছিলেন। ফলে চালকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি শুধুমাত্র ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা। এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক রং দেওয়ার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে পুলিশ।
সেনা ও পুলিশের মধ্যে সম্পর্ক সাধারণত সমন্বয়ের। তবে মঙ্গলবার সকালে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে সেনার গাড়ি আটকানোয় সেই সম্পর্ক নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের বক্তব্য, এটি নিছক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে কারণ সোমবারই ধর্মতলায় তৃণমূলের সভার জন্য সেনা মঞ্চ খুলে দিয়েছিল।
ঘটনার সময় সেনার গাড়িটি যাচ্ছিল ফোর্ট উইলিয়াম থেকে পাসপোর্ট অফিসের দিকে। কিন্তু ডিসি ট্রাফিকের কথায়, সেই অফিসে যেতে ওই রাস্তা ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া ‘নো রাইট টার্ন’ থাকা সত্ত্বেও ট্রাকটি সেখানে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করে। এর সঙ্গে সিপি’র গাড়ি পিছনে থাকা ঘটনাটিকে আরও স্পর্শকাতর করে তোলে।
রাজনৈতিক রং মাখাতে চাইলেও পুলিশ বারবার জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী। সেনার পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও পুলিশের প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজ অন্য কথা বলছে। এখন প্রশ্ন—এই ঘটনা কি নিছকই ট্রাফিক লঙ্ঘন, নাকি এর পেছনে রাজনৈতিক তর্জা আরও উসকে উঠবে?
রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে সেনার গাড়ি আটকানো নিয়ে প্রবল বিতর্ক। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা একটাই—আইন ভাঙলে শাস্তি হবে, সেটা সেনা হোক বা সাধারণ মানুষ।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়িটি বিপজ্জনকভাবে চালানো হচ্ছিল। নিয়ম না মানলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। ট্রাফিক আইন ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। এখানে প্রশ্ন সেনা বা রাজনীতি নয়, প্রশ্ন সুরক্ষা।
তবে একটি গুরুতর বিষয় সামনে এসেছে—সোশ্যাল মিডিয়ায় ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো। জনসাধারণ যদি যাচাই না করে সেই তথ্য বিশ্বাস করে, তাহলে বিভ্রান্তি ছড়াবে। তাই সরকারি সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করাই শ্রেয়।
মঙ্গলবার সারাদিন কার্যত যা ঘটে :
সকাল ১১টা নাগাদ
ফোর্ট উইলিয়াম থেকে পাসপোর্ট অফিসের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল সেনার একটি ট্রাক। ট্রাকটির গতি ছিল তুলনামূলক বেশি। পিছনেই যাচ্ছিল কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মার গাড়ি।
রাইটার্স বিল্ডিং সংলগ্ন মোড়ে পৌঁছনোর সময়
সেখানে স্পষ্ট ‘নো রাইট টার্ন’ বোর্ড ছিল। কিন্তু সেনার ট্রাকটি সেই নিয়ম ভেঙে ডানদিকে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করে।
মুহূর্তে পুলিশের হস্তক্ষেপ
ট্রাফিক পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকটি আটকায়। অভিযোগ ওঠে—ট্রাকটি বেপরোয়া গতিতে চালানো হচ্ছিল। এর ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল।
দুপুরে বিতর্কের সূত্রপাত
সেনা পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গতির অভিযোগ সঠিক নয়। অন্যদিকে পুলিশ নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে জানায়, “জিরো টলারেন্স নীতি মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
মঙ্গলবার বিকেল ৩টা
ডিসি ট্রাফিক শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “সাধারণ নাগরিক হলেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হত।” তিনি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, ট্রাকটি সিগন্যাল অমান্য করেছিল।
সন্ধ্যায় পুলিশের সতর্কবার্তা
পুলিশ জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এটি নিছক ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।
কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করে। ট্রাফিক আইন না মানলে মুহূর্তেই ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে সেনার গাড়ি আটকানো সেই সতর্কবার্তাই দিল।
যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ, অফিসগামী কিংবা ছাত্রছাত্রী যাতায়াত করেন, সেখানে একটিমাত্র নিয়ম ভাঙাই বড় বিপদের কারণ হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, ‘নো রাইট টার্ন’ বোর্ড থাকা সত্ত্বেও সেনার গাড়ি মোড় নিতে গিয়েছিল। ঠিক তখনই পিছনে ছিল পুলিশ কমিশনারের গাড়ি। দুর্ঘটনা ঘটলে এর শিকার হতে পারতেন যে কেউ।
ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা তথ্য ভেসে বেড়াচ্ছে। কিন্তু পুলিশ স্পষ্ট করেছে, এটি কোনও রাজনৈতিক ঘটনা নয়, নিছক ট্রাফিক আইন ভঙ্গ। চালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
এই ঘটনা সাধারণ মানুষকে আরও একবার মনে করিয়ে দিল—আইন ভাঙলে সে যেই হোক না কেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সচেতনতার অভাবেই ঘটতে পারে বিপদ। তাই সিগন্যাল মানা, সঠিক লেন ধরে চলা এবং নির্দিষ্ট রাস্তা ব্যবহার করা—এসবই আমাদের নিজের ও অন্যের প্রাণরক্ষার জন্য অপরিহার্য।
যদিও আমাদের মনে রাখা উচিত, সেনা কিংবা পুলিশ—সবাই আইনের অধীন। কোনও প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।




