কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা , ৪ সেপ্টেম্বর :
বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বুধবার সন্ধ্যায় কানায় কানায় ভরে উঠেছিল উত্তম মঞ্চ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা ভিড় জমিয়েছিলেন তাঁদের প্রিয় নায়ক, বাংলার চিরকালের মহানায়ক উত্তম কুমার–কে শ্রদ্ধা জানাতে।
৩ সেপ্টেম্বর, উত্তম কুমার মেমোরিয়াল কালচারাল কমিটি ও উত্তম মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল “উত্তম কুমার স্মরণ সন্ধ্যা”। এই অনুষ্ঠানে সংগীত, স্মৃতিকথা, জন্মদিন উদ্যাপন এবং সমাজসেবার মধ্য দিয়ে মহানায়ককে স্মরণ করা হয়।
বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের গানগুলি নতুন আঙ্গিকে পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পীরা। শ্রাবণী সেন, স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত, শম্পা কুন্ডু, আরফিন রানা, শমিক পাল, শিসপ্রিয়া ব্যানার্জি, সহ একাধিক শিল্পীর গানে মঞ্চ ভরে ওঠে আবেগে। দর্শকদের অনেকে জানান, এই গান শুনতে শুনতেই তাঁদের মনে ভেসে উঠছিল উত্তম কুমারের সেই অমর দৃশ্যগুলো।
সন্ধ্যার মঞ্চকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিলেন বিশেষ অতিথিরা। উপস্থিত ছিলেন কল্যান সেন বরাট, অভিনেত্রী দোলন রায়, অভিনেতা কুশল চক্রবর্তী, দিগন্ত বাগচী, স্বাগতা বসু ও ডাঃ পূর্ণেন্দু রায়। রাজনৈতিক মহল থেকেও যোগ দেন মেয়র পারিষদ সন্দীপ রঞ্জন বকশি, দেবাশীষ কুমার ও কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঞ্চে কেক কেটে পালিত হয় মহানায়কের জন্মদিন। শিল্পী থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব— সকলে একবাক্যে স্বীকার করেন, উত্তম কুমার শুধু পর্দার নায়ক ছিলেন না, ছিলেন মানবিকতার এক মহৎ প্রতিমূর্তি।
প্রায় দশ বছর ধরে ২৪ জুলাই (প্রয়াণ দিবস) ও ৩ সেপ্টেম্বর (জন্মদিন) নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মহানায়ককে স্মরণ করা হচ্ছে। এই বছরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, যাঁরা একসময় ক্যামেরার আড়ালে কাজ করতেন, তাঁদের আর্থিক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের উদ্যোগ নেয় আয়োজক কমিটি।
পাশাপাশি এবারও একজন প্রবীণ টেকনিশিয়ানকে ১০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পিয়ারলেস হাসপাতালের সহযোগিতায় তাঁদের চিকিৎসার খরচ পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বাস্থ্য প্রকল্প বহন করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
প্রতি বছর জীবন্ত কিংবদন্তী হিসেবে একজন মান্য শিল্পীকে দেওয়া হয় “উত্তম স্মারক সম্মান”। অতীতে এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন মাধবী মুখার্জি, লিলি চক্রবর্তী, শকুন্তলা বড়ুয়া, সোমা দে এবং প্রয়াত নিমাই দে।
আয়োজকদের বক্তব্য, উত্তম কুমার শুধু রূপালি পর্দার নায়ক ছিলেন না, ছিলেন শিল্পী সমাজের অভিভাবক। টেকনিশিয়ানদের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সহকর্মীদের সাহায্য— তাঁর সেই মানবিক উত্তরাধিকারকেই আগামী প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে চান তাঁরা।
স্মরণ সন্ধ্যার শেষে সকলের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় একটাই সুর—
“বাঙালির হৃদয়ে মহানায়ক আজও সমান উজ্জ্বল, সমান প্রিয়।”




