কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা , ৪ সেপ্টেম্বর :
একসময় যাকে বলা হত ‘কলকাতার প্রাণ’, সেই ট্রাম পরিষেবা আজ ধীরে ধীরে শহরের বুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। একে একে রুট বন্ধ, ডিপো ভাঙা, পরিকাঠামো অবহেলা— এসবের জেরে ট্রাম যেন ইতিহাসের পাতায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অথচ এই যানই একদিকে শহরের ঐতিহ্য, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার পরিবহন ভবনের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করে কলকাতা ট্রাম ইউজার অ্যাসোসিয়েশন (KTUA)। সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিবহন মন্ত্রীর হাতে স্মারকলিপি তুলে দিয়ে ট্রামের স্বাভাবিক পরিষেবা ফেরানোর জোরালো দাবি জানানো হয়।
ট্রাম ইউজার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে এই পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ—
-
অনেক রুট ইচ্ছে করে পিচ ঢেলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
-
জনপ্রিয় ও যাত্রীসমৃদ্ধ রুটও হঠাৎ বন্ধ করা হয়েছে কোনও যুক্তি ছাড়াই।
-
পুরনো ও ঐতিহাসিক ডিপোগুলি ভেঙে সেখানে বহুতল বা বহুজাতিক সংস্থার অফিস তৈরি হচ্ছে।
সংগঠনের বক্তব্য, এটি শুধু পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষতি নয়, বরং কলকাতার ঐতিহ্য ধ্বংসের চেষ্টাও বটে।
অ্যাসোসিয়েশন তাঁদের স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে—
-
অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া সব ট্রাম রুট পুনরায় চালু করতে হবে।
-
বিদ্যমান ডিপোগুলি সংরক্ষণ করতে হবে এবং সেগুলি থেকে নিয়মিত ট্রাম চালু রাখতে হবে।
-
পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনের স্বার্থে শহরে নতুন ট্রাম রুট চালুর পরিকল্পনা নিতে হবে।
-
ট্রামকে আধুনিক প্রযুক্তিতে সাজিয়ে শহরের ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী এক সদস্য বলেন,
“ট্রাম শুধু যানবাহন নয়, এ শহরের প্রাণ ও ঐতিহ্য। সরকার পরিকল্পিতভাবে এটিকে শেষ করে দিতে চাইছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি— অবিলম্বে বন্ধ রুটগুলি ফের চালু করা হোক। শহরের যানজট ও দূষণ কমানোর এটাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”
স্মারকলিপি গ্রহণ করে পরিবহন মন্ত্রী আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করেছেন যে তাঁদের দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। তবে আপাতত সরকার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। ফলে ভক্তদের মনে অনিশ্চয়তা থেকেই গেল— ট্রাম কি সত্যিই ফিরবে শহরের রাস্তায়, নাকি তা শুধুই অতীতের স্মৃতি হয়ে যাবে?
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেট্রো ও বাসের ভিড়ে ট্রাম আজ অবহেলিত হলেও, শহরের ভবিষ্যতের সবচেয়ে টেকসই পরিবহন মাধ্যম হতে পারে ট্রামই। কারণ—
-
এটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত, ফলে দূষণহীন।
-
কম খরচে তুলনামূলক বেশি যাত্রী বহন করতে সক্ষম।
-
রাস্তায় গাড়ির চাপ ও যানজট কমাতে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।
তাঁদের মতে, এখনই যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তবে কলকাতা শুধু একটি পরিবহন মাধ্যম নয়, বরং নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও বড় অংশ হারাবে।




