কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা , ৪ সেপ্টেম্বর :
বিজেপি–তৃণমূল বিধায়কদের সংঘর্ষে উত্তাল অধিবেশন, একাধিক বিধায়ক বহিষ্কার !
রাজ্যের বিধানসভা এ দিন যেন রণক্ষেত্র। সকাল থেকেই শুরু হওয়া উত্তেজনা দুপুর গড়াতেই রূপ নেয় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলায়। শ্লোগান, ধস্তাধস্তি, ওয়েলে শুয়ে পড়া থেকে শুরু করে মার্শালের সঙ্গে হাতাহাতি—সব মিলিয়ে বিরোধী–তৃণমূল সংঘর্ষে বারবার স্তব্ধ হয়ে পড়ে অধিবেশন। অবস্থা সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নামেন ওয়েলে। দলের বিধায়কদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন তিনি—“ওয়েলে কেউ থাকবেন না, যে-ই হোক, আমি নিজে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেব।”
বাংলা ভাষার অবমাননা এবং ভিন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থার প্রতিবাদে দিন শুরুতেই বিজেপি বিধায়কদের শ্লোগান ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে বিধানসভা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাসপেনশনকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপি শিবির। তাঁদের অভিযোগ, কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য শুরু করতেই উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। শ্লোগানের মাঝে তিনি বলেন, “বিধানসভা শান্ত রাখা সকলের দায়িত্ব। বিজেপি আসলে গদি চোর, ভোট চোর। এঁরা দেশের লজ্জা।”
স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এ সময় বিরোধীদের শান্ত হতে বারবার অনুরোধ করেন। কিছু সময়ের জন্য অগ্নিমিত্রা পালকে বক্তব্যের সুযোগ দিলেও ফের হট্টগোল শুরু হলে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু শঙ্কর ঘোষ স্লোগান চালিয়ে যেতে থাকায় মার্শালদের সঙ্গে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। সেই উত্তেজনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীকে নিজে ওয়েলে নেমে বিধায়কদের শান্ত করতে দেখা যায়।
ক্রমে বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামী ও অশোক দিন্দাকেও অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার। ফলে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। মমতা ফের কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “যদি তৃণমূলের কেউ ওয়েলে নামেন, তাকেও সাসপেন্ড করব।”
বক্তব্যের দ্বিতীয় পর্যায়ে মমতা কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশনীতি ও কর কাঠামোর সমালোচনায় সরব হন। তাঁর কথায়, “দেশ আজ রাশিয়া, চিন, ইজরায়েলের পায়ে পড়ছে। দেশ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, স্বাস্থ্য ও বিমায় কর মকুবের প্রস্তাব তাঁরই চাপের ফলে বাস্তবায়িত হয়েছে।
দিনভর অশান্তির পর বিজেপি তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানায়। দলের তরফে সামাজিক মাধ্যমে লেখা হয়, “বাংলায় গণতন্ত্র আজ মৃত। যিনি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই মুখ্যমন্ত্রী আজ বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করছেন। ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছে।”
শাসক–বিরোধী সংঘর্ষে বিধানসভা অশান্ত হওয়া নতুন কিছু নয়। তবে এ দিনের বিশৃঙ্খলা একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ মানুষের করের টাকায় চলা অধিবেশনে এ ভাবে সময় নষ্ট হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিভিন্ন মহল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্য রাজনীতির এই ধারাবাহিক সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে।




