কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কাঠমান্ডু, ৫সেপ্টেম্বর :
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স—সবই নিষিদ্ধ ঘোষণা করল সরকার !
নেপালে কার্যত ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’। জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ ব্যান জারি করল নেপাল সরকার। সরকারের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়া ডিরেক্টিভস ২০৮০ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নেপালের নতুন ‘সোশ্যাল মিডিয়া ডিরেক্টিভস ২০৮০’ আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে—
-
যে কোনও আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে নেপালে পরিষেবা চালাতে চাইলে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।
-
রেজিস্ট্রেশনের সময় স্থানীয় ঠিকানা, অফিস, কনটেন্ট মডারেশনের নিয়ম এবং ব্যবহারকারীদের অভিযোগ জানানোর জন্য প্রতিনিধি রাখতে হবে।
কিন্তু মেটা (যারা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম চালায়) এই নির্দেশ মানেনি। ইউটিউব ও এক্সও প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন করেনি। তাই সরকার সরাসরি ব্যান ঘোষণা করেছে।
নেপালের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক জানিয়েছে—
“দেশের আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। নাগরিকদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং ভুয়ো খবর রোখার স্বার্থে এই পদক্ষেপ। বড় বড় আন্তর্জাতিক সংস্থাও যদি নিয়ম মানতে অস্বীকার করে, তবে আইন মেনে চলা নাগরিকদের সঙ্গে অবিচার হবে।”

হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বহু নেপালি নাগরিক। অনেকেই জানিয়েছেন, যোগাযোগ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে বড়সড় অসুবিধা হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীরা, যারা ফেসবুক পেজ বা ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে বিক্রি করতেন, তাঁরা কার্যত দিশেহারা।
কাঠমান্ডুর এক তরুণ ব্যবসায়ী বলেন—
“আমরা অনলাইনে কাপড় বিক্রি করি। দিনে অন্তত ৩০–৪০ জন গ্রাহকের অর্ডার আসত ফেসবুকের মাধ্যমে। এখন সব বন্ধ। সরকারের কাছে অনুরোধ, অন্তত বিকল্প কোনও ব্যবস্থা যেন দ্রুত করা হয়।”
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলে নেপালের এই পদক্ষেপ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, “এটি ডিজিটাল স্বনির্ভরতার সাহসী পদক্ষেপ”; অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, “এটি বাকস্বাধীনতার উপর আঘাত।”
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যদি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি নেপালের আইনের আওতায় এসে রেজিস্ট্রেশন করে, তবে ব্যান প্রত্যাহার করা হবে। তবে ততদিন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।




