কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কাঠমান্ডু, ৫সেপ্টেম্বর :
সচেতনতা বাড়াতে রাজ্যজুড়ে প্রচার চালাবে পরিবহণ দপ্তর !
পুরোনো গাড়ি কেনাবেচার নামে প্রতারণার জাল ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে রাজ্যে। ভুয়ো ডিলারের ফাঁদে পড়ে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আইনি জটিলতায় জড়িয়ে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কখনও গাড়ি বিক্রির পর রেজিস্ট্রেশন সঠিক নিয়মে হস্তান্তর না হওয়ায় মালিকরা আইনের ফাঁসেই আটকে যাচ্ছেন। আবার অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, বিক্রি হওয়া গাড়ি চুরি বা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, দায় এসে পড়ছে আগের মালিকের ঘাড়েই। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি এড়াতেই এ বার কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।
বৃহস্পতিবার পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী ঘোষণা করলেন, পুরোনো গাড়ি কেনাবেচায় প্রতারণা রুখতে পরিবহণ দপ্তর একটি বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। সেই গাইডলাইনকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে জনসচেতনতা প্রচারও চালানো হবে।
কী আছে গাইডলাইনে?
-
গাড়ি বিক্রির সময়ে নতুন ক্রেতার পরিচয় ও নথিপত্র ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।
-
গাড়ি কেবলমাত্র সেই ব্যক্তির কাছেই হস্তান্তর করতে হবে, যাঁর নামে রেজিস্ট্রেশন বা মালিকানা পরিবর্তন করা হবে।
-
মালিকানা বদলের সময় অবশ্যই পরিবহণ দপ্তরের আঞ্চলিক অফিস (RTO)-এ গিয়ে সরাসরি উপস্থিত থেকে নথিতে সই করতে হবে।
-
পুরোনো গাড়ি কোনও ডিলারের মাধ্যমে কিনতে চাইলে আগে দেখে নিতে হবে ডিলারের বৈধ লাইসেন্স আছে কি না।
পরিবহণ দপ্তরের কর্তারা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রেই গাড়ি বিক্রির পরেও রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিয়মমাফিক বদল হয়নি। এতে দেখা গেছে, পুরোনো মালিককে পরবর্তী সময়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
এক দপ্তরীয় আধিকারিকের কথায়—
“অনেকে গাড়ি বিক্রি করেই নিশ্চিন্ত হয়ে যান। কিন্তু মালিকানা বদলের প্রক্রিয়া শেষ না হলে গাড়িটি ভবিষ্যতে কোনও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হলে দায় প্রাক্তন মালিকের উপরেই বর্তাবে।”
প্রতারণার পদ্ধতি কীভাবে বাড়ছে?
-
ভুয়ো ডিলাররা মধ্যস্থতা করে গাড়ি বিক্রির নামে প্রতারণা করছে।
-
রেজিস্ট্রেশন না বদলে বহু গাড়ি অন্যের হাতে চলে যাচ্ছে।
-
চুরি, ছিনতাই কিংবা বেআইনি কাজে ব্যবহার হচ্ছে সেই গাড়িগুলি।
মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন,
“মানুষ যদি সচেতন থাকেন, তবে এই ধরনের প্রতারণা অনেকটাই রোখা সম্ভব। গাইডলাইনের মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে চাই। সেই কারণে রাজ্যজুড়ে প্রচার চালানো হবে।”
পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গাইডলাইন কার্যকর হলে পুরোনো গাড়ি কেনাবেচার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অনেকটাই বাড়বে। তবে সঙ্গে জনসচেতনতা তৈরি করাও জরুরি। কারণ নিয়ম যতই থাকুক, সাধারণ মানুষ যদি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত না হন, তবে প্রতারণা রোখা সম্ভব নয়।




