কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা , ৫সেপ্টেম্বর :
৫ সেপ্টেম্বর থেকে চলল AC লোকাল, যাত্রীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া !
‘বনগাঁ লোকাল’ নামটা শুনলেই এতদিন বহু নিত্যযাত্রীর চোখে ভেসে উঠত ঠাসা ভিড়, গুমোট গরম আর ঘামে ভেজা যাত্রার বিভীষিকা। কিন্তু শুক্রবার থেকে সেই ছবিটাই ইতিহাস। শিয়ালদহ–বনগাঁ ও শিয়ালদহ–কৃষ্ণনগর শাখায় চালু হলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লোকাল ট্রেন। এ দিন থেকে আপ–ডাউন মিলিয়ে চারটি এসি লোকাল নামানো হয়েছে রেললাইনে।
যাত্রীরা বলছেন, “এটা সত্যিই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বনগাঁ লোকালেও এখন এয়ার কন্ডিশন!” ঝকঝকে কামরা, সুশৃঙ্খল আসনবিন্যাসের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীও মোতায়েন। তবে আরাম থাকলেও খরচের চাপ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
প্রথম দিনেই এসি লোকালের অভিজ্ঞতা নেন বনগাঁর সোহন মণ্ডল। বারাসত থেকে শিয়ালদহ যাওয়ার টিকিট কাটেন ৬০ টাকায়। ট্রেনে ওঠার আগে প্রশ্ন ছিল—“প্রতিদিন এত টাকা খরচ করলে পয়সা উসুল হবে তো?” কিন্তু যাত্রা শেষে তাঁর রায়, “অসাধারণ অভিজ্ঞতা, গরমে কষ্ট নেই।”
একই অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন কৃষ্ণনগরের চম্পা নন্দীও। মেয়ের অনুরোধে তিনি ৮৫ টাকায় এসি লোকালের টিকিট কেটে বনগাঁ গিয়েছেন বাপের বাড়ি। তাঁর কথায়, “প্রচণ্ড আরাম, তবে ভাড়া একটু বেশি।”
বেলঘরিয়ার বাসিন্দা প্রভাত কুমার চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নতুন কোনও রুটে ট্রেন বা মেট্রো চালু হলে প্রথম টিকিট কেনার চেষ্টা করেন তিনি। বনগাঁ লোকালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাঁর ভাষায়, “এই মুহূর্তটা সংগ্রহ করার মতো।”
ভাড়ার তালিকা
রেলের তরফে ঘোষিত হয়েছে নতুন ভাড়া। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাড়া নিচে দেওয়া হলো—
শিয়ালদহ–বনগাঁ (ভায়া বারাসত–রানাঘাট):
-
শিয়ালদহ–বারাসত — ৬০ টাকা
-
শিয়ালদহ–হাবরা — ৯০ টাকা
-
শিয়ালদহ–গোবরডাঙা/ঠাকুরনগর — ১০৫ টাকা
-
শিয়ালদহ–বনগাঁ — ১২০ টাকা
-
শিয়ালদহ–রানাঘাট — ১৫০ টাকা
শিয়ালদহ–কৃষ্ণনগর (ভায়া রানাঘাট):
-
শিয়ালদহ–বেলঘরিয়া — ৪০ টাকা
-
শিয়ালদহ–বারাকপুর — ৬০ টাকা
-
শিয়ালদহ–নৈহাটি — ৯০ টাকা
-
শিয়ালদহ–চাকদহ — ১০৫ টাকা
-
শিয়ালদহ–কৃষ্ণনগর সিটি জংশন — ১৪০ টাকা
প্রথম দিনেই খুশি হলেও অনেকেই বলছেন, “নিত্যযাত্রীদের পক্ষে প্রতিদিন এত টাকা দেওয়া কঠিন। ভাড়া কিছুটা কমানো উচিত।” বিশেষ করে অফিসযাত্রীদের একাংশের মতে, এই ভাড়া দীর্ঘমেয়াদে বহন করা সম্ভব নয়।
রেল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, এই উদ্যোগ শহরতলির যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়। তবে যাত্রীদের বক্তব্য, আরামের সঙ্গে যদি সাশ্রয়ী ভাড়ার সামঞ্জস্য রাখা যায়, তবেই বনগাঁ লোকালের এই ‘এসি যুগ’ দীর্ঘস্থায়ী হবে।




